সাখাওয়াত হোসাইন
১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:২২ পিএম
দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এবং মানুষের প্রত্যাশা সবসময়ই থাকে তুঙ্গে। মানুষ চায়, স্বাস্থ্যসেবা থাকবে তাদের দোরগোড়ায়। তবে কোনো সরকারের আমলেই জনগণের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টো সারা বছরই এই খাত থাকে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে।
তারই মাঝে ছয় মাস মাস পার করে ফেলল বর্তমান বিএনপি সরকার। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার গত ছয় মাসে স্বাস্থ্যখাতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সামনে আরও বহু চ্যালেঞ্জ।
এতসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এই খাতকে ঢেলে সাজানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দিন-রাত ছুটে চলছেন দেশের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে। হুটহাট গিয়ে হাজির হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে। চিকিৎসক সময়মতো আসছেন কি না, রোগীরা ঠিকঠাক সেবা পাচ্ছেন না, সরকার থেকে দেওয়া হাসপাতালে দেওয়া বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রীর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না- এসবই তিনি সশরীরে তদারকি করছেন, কোনো গাপিলতি পেলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশনও নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে করা হয়েছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে চীনা বিনিয়োগও রয়েছে আলোচনায়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামলাতে হচ্ছে হাম। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার কিছু দিন পরই গত মার্চের শুরু থেকে দেশের কয়েকটি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দ্রুত দেশের সব জেলায় এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে কিছুদনি পরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি পালিত হয়। গত ৫ এপ্রিল জরুরি এ কর্মসূচি শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। এতে আসে সফলতা, সংক্রমণ কমে হামের।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশের মোট ৯০৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেছে ৮০৯ জনের। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৮৮০ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে শুরু হওয়া কার্যক্রমে দেশব্যাপী প্রায় ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এবং মে মাসের মধ্যে দুই কোটিরও বেশি শিশুকে সফলভাবে এই টিকার আওতায় আনা হয়। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুরা এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতাভুক্ত ছিল। প্রথম ধাপে ১৮টি উপজেলায় টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়, পরে ধাপে ধাপে সারাদেশে এটি পরিচালিত হয়।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২ জন শিশু টিকা পেয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩ জন, রংপুর বিভাগে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ লাখ ৯৪ হাজার ১৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
গত ৯ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সরকার টিকা হাতে পাওয়ার পরপরই নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত বিতরণ শুরু করেছে। দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে হামের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে।
ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ‘ভিটামিন এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হয়। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি প্রায় আড়াই কোটি শিশুকে ‘ভিটামিন এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ‘ভিটামিন এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল।
১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হয়।
অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান
বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ হাসপাতাল, ল্যাব, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মানহীন ও অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে পরিচালিত তিন দিন (২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ) অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। অভিযানে মোট পাঁচটি হাসপাতাল সিলগালা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করে নানা গাপিলতি পেয়ে অ্যাকশন নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
র্যাবিস ভ্যাকসিন ও এন্ট্রি স্নেক ভেনম
দেশব্যাপী র্যাবিস ভ্যাকসিন ও এন্টি স্লেক ভেনম বিতরণ করা হয়েছে। সহজেই এই সেবা পাচ্ছেন দেশের মানুষ। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে দেড় লাখ র্যাবিস ভ্যাকসিন ও ২২ হাজার ৬৯০টি এন্টি স্নেক ভেনম রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমানে মজুদও রয়েছে।
স্বাস্থ্য বাজেট ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে স্বাস্থ্যখাতে নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য ২৬ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ৮ হাজার ৪৪৪ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন (এডিপি) খাতে বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫১৯ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং মোট এডিপির প্রায় ১২ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পরিচালন বাজেট ২২ হাজার ৫৮০ কোটি ৬৩ লক্ষ ও উন্নয়ন বাজেট ২৬ হাজার ৮০৮ কোটি মোট ৪৯ হাজার ৩৮৮ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে পরিচালন বাজেট ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ৯৮ লক্ষ ও উন্নয়ন বাজেট ৮ হাজার ৪৪৪ কোটি ৮৫ লক্ষ মোট ১৩ হাজার ৬৮৯ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগে সর্বমোট ৬৩ হাজার ৭৮ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা
চিকিৎসক সংকট কাটানোর অংশ হিসেবে সারাদেশে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই প্রস্তাবনা বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। শিগগিরই শুরু হবে ৫ হাজার চিকিৎসকের প্রক্রিয়া। এর মধ্যে সহকারী সার্জন অথবা মেডিকেল অফিসার হিসেবে ৪ হাজার ৭০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ পাবেন আরও ৩০০ জন।
জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মনোযোগী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এ লক্ষ্যে দুই বেলা বহির্বিভাগ, ল্যাবরেটরি ও জরুরি সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে ইনডোরে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিতের পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। যার অংশ হিসেবে সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসার নিয়োগে তৈরি করা হচ্ছে নতুন আরও ৫ হাজার পদ। এর মধ্যে সহকারী সার্জন বা সমমানের ৪ হাজার ৭০০ এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জনের পদ থাকছে ৩০০টি। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে সায় দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ
দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে শিগগিরই চিকিৎসকসহ প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এই বড় নিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে ধাত্রীবিদ্যায় দক্ষ আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ পদ নারীদের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীতের উদ্যোগ
সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একইসঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো, নতুন জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্পটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে চীন সরকারের সহায়তায় নীলফামারী সদরে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যা অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে গত ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একনেক সভায় শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় মোট ২ হাজার ৪৫৯ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা (জিওবি ১৭৯ দশমিক ২৭ কোটি টাকা এবং চীনের অনুদান ২২২০ দশমিক ০৮ কোটি টাকা)। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ এপ্রিল ২০২৬ থেকে মার্চ ২০৩০ (৪ বছর)।
এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য নীলফামারী সদর উপজেলায় আধুনিক ও বিশেষায়িত একটি ১০তলা ভবনে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল (৫০০ শয্যা সাধারণ + ৫০০ শয্যা বিশেষায়িত) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা (নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজি, গ্যাষ্ট্রোএন্টারোলোজী প্রভৃতি) প্রদান।
পাঁচটি বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালুর পদক্ষেপ
রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লায় নির্মিত শিশু হাসপাতাল ভবন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আসার পর তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে হাসপাতালগুলো চালুর নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে পদসৃজনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, আসবাবপত্রের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলো চালুর জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
রংপুর ও কুমিল্লা শিশু হাসপাতালের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল শিশু হাসপাতালের আসবাবপত্র ক্রয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে পাঁচটি শিশু হাসপাতালে আসবাবপত্র সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাঁচটি শিশু হাসপাতালের জন্য মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের একটি প্রাক্কলন স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। যন্ত্রপাতি বাবদ আনুমানিক ২১৭ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উদ্যোগ
সারাদেশে ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান, যা সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ৩০টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। হস্তান্তরের জন্য তালিকা ও ইনভেন্টরি প্রস্তুত করে তা সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১০টি আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার বিভিন্ন সিভিল সার্জন কর্তৃক গ্রহণ করা হয়েছে।
আলোচিত আদ-দ্বীনের ঘটনা
গত ২৭ মে ভোরে ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়জন নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে, যার ফলে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল, প্রশাসনিক পদত্যাগ এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তে হাসপাতালের পরিকাঠামো ও সেবার মান অযোগ্য বিবেচিত হলে জুনের ১১ তারিখে লাইসেন্স বাতিল করা হয়। পরে আদ-দ্বীন মেডিকেলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের লাইসেন্স ফিরিয়ে দেয় সরকার।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর
গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের চাচড়া এলাকায় ৫০০ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। ভবনটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নির্মাণ করছে।
এদিকে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে চীন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চীনের অর্থায়নে দেশে ২১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল নির্মিত হবে। এর মধ্যে ১ হাজার শয্যার ১৮টি সাধারণ হাসপাতাল এবং নারী ও শিশুদের জন্য ১ হাজার ৫০০ শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকবে। পাশাপাশি ১০০টি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স ও চারটি হেলিকপ্টার দেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।
পররাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। হাসপাতাল নির্মাণে জমি দেবে বাংলাদেশ, আর নির্মাণ ব্যয় বহন করবে চীন। হাসপাতালগুলো বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ জেলা, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও খুলনা অঞ্চলে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। কোনো নাগরিককে চিকিৎসার অভাবে মরতে হবে না। সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
এসএইচ/এএইচ