নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিতে এবং বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে দ্রুত একটি ‘জাতীয় কৌশল’ (ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি) প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত।
তিনি জানান, সরকার নলেজ-বেসড বা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ খাতের বিকাশ ও উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা (পলিসি সাপোর্ট) দেওয়া হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল দ্য ওয়েস্টিনে 'জেনেরিক থেকে বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন: বায়ো-ইকোনমির পথে বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়ন' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বায়োটেড (BioTED), যার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সোমরু বায়োসায়েন্স ও সহযোগী হিসেবে ছিল জেনএক্স। এতে আইসিডিডিআরবির নির্বাহর পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ, সোমরু বায়োসায়েন্স এর মোহাম্মদ মইন, বায়োটেড এর মোসাদ্দেক হোসেন, জেএক্স এর ডা. মুনিয়া আমিনসহ এইখাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে। এখন সময় এসেছে এটিকে বায়োসিমিলার, ভ্যাকসিন ও বায়োটেকনোলজির মতো উচ্চপর্যায়ের ধাপে রূপান্তর করার। এটিকে কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি বা বায়ো-ইকোনমির লেন্স দিয়ে দেখতে হবে।
তিনি খাতের রূপরেখা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩ থেকে ৫ বছরের রোডম্যাপ: আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে সঠিক মান ও আন্তর্জাতিক স্কেল বজায় রেখে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন গবেষণার প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। নতুন এই রূপান্তরে প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে। সরকার শুধু সাধারণ কর্মসংস্থান নয়, বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চপর্যায়ের (হাই-এন্ড) কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের (ডিজিডিএ) নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩’ (ML3)-এ উন্নীত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন বিএমআরসি) সক্ষমতা বৃদ্ধি, মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা তহবিল (রিসার্চ ফান্ডিং) বাড়ানোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অংশীজনদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
এসএইচ/এআরএম