হেলথ ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
জেসন নামের এক ব্যক্তি কোক ক্যানের আকৃতির মতো অতিরিক্ত ফিলার দিয়ে নিজের পেনিস বা লিঙ্গের পরিধি ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছেন। এতে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলে তিনি দাবি করলেও, চিকিৎসকরা এর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিলতা নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। খবর বিবিসির।
সৌন্দর্য ও শারীরিক গঠন নিয়ে মানুষের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে অনেকেই নানা ধরনের কসমেটিক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। জেসন তার লিঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও সুন্দর ভারসাম্যপূর্ণ অবয়ব পাওয়ার জন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড নামক এক ধরনের সাময়িক ফিলার ব্যবহার করেছেন। তার মতে, গণমাধ্যম এবং পারিপার্শ্বিক প্রভাবে পুরুষদের মধ্যেও সৌন্দর্য ও নিখুঁত শারীরিক গঠনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ক্লিনিকে এ ধরনের সেবা প্রদানকারীরা মানুষের এই অনিরাপত্তাবোধকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছে নানামুখী শারীরিক ঝুঁকি। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের ক্লিনিকগুলোতে এই সেবা দেওয়া হলেও এর জন্য কঠোর কোনো আইনি বা চিকিৎসা প্রশিক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই।

চিকিৎসকদের মতে, ফিলার প্রয়োগের ফলে ব্যথা, কালশিটে দাগ, অসমভাবে ফিলার ছড়িয়ে পড়া কিংবা সংক্রমণের মতো জটিলতা হতে পারে। এমনকি রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুরুষাঙ্গ কালো হয়ে যাওয়া এবং ত্বক খসে পড়ার মতো মারাত্মক নেক্রোসিস দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
জার্মানির এক হাসপাতালে সার্জারি করিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো অভিজ্ঞতাও রয়েছে অনেকের।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের অ্যান্ড্রোলজিস্ট ও পরামর্শক ইউরোলজিক্যাল সার্জন প্রফেসর বৈভব মোদগিলসহ বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের চিকিৎসার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: পুরুষ-নারীর গোপন সমস্যা সারায় লজ্জাবতী, আছে আরও উপকারিতা
ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনসও অপর্যাপ্ত প্রমাণ ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এসব প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নতুন সুপারিশ প্রকাশ করেছে। চিকিৎসকরা এই শিল্পখাতকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনার এবং তথ্যের স্বচ্ছতার জন্য একটি জাতীয় নিবন্ধন চালুর ওপর জোর দিয়েছেন।
এজেড