নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অবহেলা দূর করে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মর্যাদা নিশ্চিতের পাশাপাশি অবহেলা, অপ্রাপ্তি ও বৈষম্যের শিকার স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য’র আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর বিকল্প নেই। নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা রোগ প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মহামারি মোকাবিলায়ও তারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন।
তাদের অভিযোগ, যুগের পর যুগ এসব পেশাজীবী শিক্ষা, পদমর্যাদা, পদোন্নতি, প্রশাসনিক কাঠামো ও পেশাগত স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। বারবার দাবি উত্থাপন করা হলেও বিভিন্ন সময়ে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সমশিক্ষার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ১০ম গ্রেডের পদমর্যাদা দেওয়া হলেও ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দীর্ঘদিনেও একই মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে নতুন নতুন জটিলতা তৈরি করে দাবি বাস্তবায়ন বিলম্বিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এসময় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের স্বতন্ত্র কাঠামো বজায় রাখা, অধিদফতরের স্ট্যান্ডার্ড সেটআপ, নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের পেশাগত নিবন্ধনের ব্যবস্থা, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের জন্য স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসকের আনুপাতিক হারে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ সৃষ্টি এবং সমন্বিতভাবে নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির নেতারা আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন এবং এসব পেশাজীবীর পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে জনকল্যাণমুখী ও বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনায় নিয়ে যেতে সরকারের নেওয়া যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা সহযোগিতা করবেন। একইসঙ্গে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা মহল এসব সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করলে তা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নেতারা বলেন, দেশের মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বও দিন দিন বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতের এসব পেশার শিক্ষা, মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হলে একদিকে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে বিদেশে এসব পেশাজীবীর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা স্বাস্থ্য খাতে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মতামত ছাড়া স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করা হলে তা একপেশে হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং এতে কাঙ্ক্ষিত জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হয়।
সংগঠনটি বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ), বাংলাদেশ ডিপ্লোমা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএনএ), বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস), বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএমএ), বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিপিএ), বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এম/এএইচ