নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিক ডেলিভারি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের ওয়ার্ডে একটি করে হেলথ কেয়ার ইউনিট স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
রোববার (২১ জুন) সকালে সচিবালয়ে সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশব্যাপী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করছি। চিকিৎসানির্ভর না হয়ে কীভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে যাওয়া যায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, নবজাতক সেবাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। আগামী ৩-৪ বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। একজন মা যেন ইউনিয়ন পর্যায়েই স্বাভাবিক ডেলিভারি সেবা পান, সে ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে হেলথ কেয়ার ইউনিট থাকবে। একই ধরনের ইউনিট থাকবে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডেও। এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিক ডেলিভারি করানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের হেলথ কেয়ার ইউনিটে দুজন করে মিডওয়াইফ থাকবেন। জটিল ডেলিভারির জন্য উপজেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে কোনো মাকে উপজেলার বাইরে যেতে না হয়। শিশুর জটিল সমস্যার চিকিৎসাও উপজেলা পর্যায়ে নিশ্চিত করা হবে।
ডা. হায়দার বলেন, দেশে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে মিডওয়াইফ নিয়োগ দিলে অন্তত ১১ হাজার জনবল প্রয়োজন হবে। উপজেলা ও জেলা হাসপাতালেও মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। বেসরকারি হাসপাতালে এখনো স্বাভাবিক ডেলিভারির জন্য নিবেদিত ইউনিট গড়ে ওঠেনি, সেখানে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত মিডওয়াইফ ও স্বাভাবিক প্রসবসেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। মিডওয়াইফরা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েই সেবা দেবেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪১-৪২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। আগামীতে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দেড় লাখ স্বাস্থ্যকর্মী থাকলে প্রতিটি পরিবারকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিশ্চিত করা যাবে।
আরও পড়ুন: ৩-৪ বছরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন ২৫ হাজার মিডওয়াইফ
গত দেড় যুগ ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব পেলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। দেশে বর্তমানে ১৪ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। তবে এগুলোর কার্যকর পরিচালনায় আরও মনোযোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট থাকবে, যেখানে সব ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে। বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর পাশাপাশি নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে।
হামের টিকাদান প্রসঙ্গে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশে হামের কারণে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দ্রুত জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়। মাত্র এক মাসের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের শতভাগ টিকাদান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা একটি বড় অর্জন।
তিনি বলেন, অল্প সময়ে এত বড় জনসংখ্যার শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করা বিশ্বে বিরল সাফল্য।
এসএইচ/এআর