নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তে হবে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদফতর।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আদ-দ্বীন হাসপাতাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর ১৯৮২ সালের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অধ্যাদেশ-এর আওতায় কাজ করে এবং আইনগত এখতিয়ারের মধ্যেই ব্যবস্থা নিতে পারে। মামলার বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখবে।
লাইসেন্স বাতিলের পর রোগীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অধ্যাদেশের ১২ ধারায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ফলে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
শিশু মৃত্যুই একমাত্র কারণ কিনা—এই প্রশ্নের জবাবে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ছয় শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্য অধিদফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এরপর অধিদফতরের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, তার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে পরিদর্শনে কী ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি। তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় বিস্তারিত প্রকাশ করলে চলমান প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
মেডিকেল কলেজের কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মহাপরিচালক বলেন, মেডিকেল কলেজ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পুনরায় জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক। তবে আপিল ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্তের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে ঢাকা মেইলের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএইচ/এআর