জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১০ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
দেশে কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের তারকা চিহ্নিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সসহ দেশের সকল হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানোর প্রতিষেধক (Anti-Rabies Vaccine) সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৫ ভায়াল বা ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।’
নির্দিষ্ট এলাকার তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১০ জুন পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের (এআরভি) ৫০টি ভায়াল মজুত আছে। এছাড়া শরীরের ওপরের অংশে কুকুর কামড়ালে তড়িৎ অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য ব্যবহৃত ইমিউন গ্লোবুলিন ভ্যাকসিনের মজুত রয়েছে ৬৫ ভায়াল বা ২৬০ ডোজ।
পরবর্তীতে ওই সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরবরাহ ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে তিন স্তরে স্টক (মজুত) রেডি রেখেছি। শুধু এটি নয়, প্রতিটি ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেই উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রাখা হয়েছে।’
জরুরি পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের জোগান নিশ্চিত করতে সরকারের ‘চার স্তরের’ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে— যদি কোনো উপজেলায় মাত্রাতিরিক্ত রোগী আসে এবং স্টক শেষ হয়ে যায়, তবে পাশের উপজেলা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। সেখানে শেষ হয়ে গেলে জেলা থেকে নেবে। জেলার মজুতও যদি শেষ হয়ে যায়, তবে কেন্দ্র বা সিএমএসডি থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাৎক্ষণিকভাবে কিনে দেবেন।’
সংসদ সদস্য ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘চার স্তরে আমরা মজুত রেখেছি। সংসদ সদস্যকে নিশ্চয়তা প্রদান করছি, ইনশাআল্লাহ এই আশ্বিন মাসে কুকুরে বেশি কামড়ালেও আল্লাহর রহমতে আমাদের ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না।’
বিইউ/ক.ম