নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) ভর্তি পরীক্ষার ফি কমানো এবং প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক ও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৬ দফা দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা একযোগে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন।
বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের জন্য বিসিএসে আবেদনের বয়সসীমা ছিল ৩২ বছর। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যদি বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি করা যায়, তাহলে চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও একইভাবে দুই বছর বৃদ্ধি করাও যৌক্তিক।

তাঁরা আরও বলেন, বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। সরকার ঘোষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এ ভাতা দিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একইভাবে এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী, এমএস ও এমডি রেসিডেন্ট চিকিৎসকেরা মাসিক ৩৫ হাজার টাকা ভাতা পান, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অপর্যাপ্ত। তাই পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী, এমএস ও এমডি রেসিডেন্টদের নবম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তাঁরা।
তাঁদের ৬ দফা দাবি হলো—
১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন-সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে।
২. বিএমইউ ও বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে আনতে হবে।
৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক ভাতাসহ নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে হবে।
৪. স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের মতো সাধারণ প্রার্থীদের চেয়ে দুই বছর বেশি, অর্থাৎ ৩৪ বছর করতে হবে।
৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে (শ্রম আইন, ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ করে)।
এসএইচ/এআর