ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৭ মে ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক সংবাদ সম্মেলনে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেছেন, হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসের সবাইকে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তি সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে আসছেন বা তাদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের উচিৎ আরও বেশি সুরক্ষামূলক পোশাক-আশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা।
হান্টাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করে মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেন, যারা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছে, তারা সংক্রমিত হয়েছে কি হয়নি, তা শনাক্ত করার কাজ চলছে।
‘তবে হান্টাভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। এটি না কোভিড, না ইনফ্লুয়েঞ্জা, এর ছড়ানোর ধরন একেবারেই আলাদা।’ বলেন এই সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ।
হান্টাভাইরাসের সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারীর শুরুর সময়ের পার্থক্য নিয়ে মারিয়া বলেন, এখনকার পরিস্থিতি ছয় বছর আগেকার পরিস্থিতির মতো নয়। তিনি বলেন, "আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, এটি নতুন কোনো কোভিড মহামারির শুরু নয়। এটি এমন একটি প্রাদুর্ভাব, যা কেবল একটি জাহাজে দেখা যাচ্ছে।"
সম্প্রতি আটলান্টিক মহাসাগরে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আরও কয়েকজন অসুস্থ হওয়ায় ভাইরাসটির সংক্রমণ ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
হান্টাভাইরাস কী:
হান্টাভাইরাস হচ্ছে একগুচ্ছ ভাইরাসের সমষ্টি, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ইঁদুরের লালা, মল-মূত্র বা এদের বাস স্থানের ধুলিকণার সংস্পর্শে মানুষ এলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দেহে গুরুতর রোগ তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’ প্রতিবেদনে লিখেছে, ভৌগোলিক অবস্থানভেদে এ ভাইরাসের সংক্রমণের ধরন ও লক্ষণে ভিন্নতা দেখা যায়।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এ ভাইরাসের কারণে ‘হান্টাভাইরাস কার্ডিওপালমোনারি সিনড্রোম’ বা এইচসিপিএস নামের রোগ হয়, যা সরাসরি শ্বাসতন্ত্র বা ফুসফুসকে আক্রমণ করে। এ নির্দিষ্ট ধরনে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেকই মারা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে হান্টাভাইরাস ‘হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম’ বা এইচএফআরএস তৈরি করে। এ রোগটি দেহের রক্তনালী, বিশেষ করে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। অঞ্চল যেটাই হোক না কেন দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এ সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক ১০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস’-এর তথ্য অনুসারে, ওই জাহাজ থেকে নামা দুই ব্যক্তির দেহে ‘আন্দেস ভাইরাস’-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
‘আন্দেস ভাইরাস’ হান্টাভাইরাসেরই একটি রূপ যা, এইচসিপিএস বা শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ তৈরি করে। এ নির্দিষ্ট ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। -বিবিসি
ক.ম/