images

হেলথ

হাম ও উপসর্গে একদিনে রেকর্ড ১৭ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ মে ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে দুইজন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যায় ১৫ জন। মারা যাওয়া সবাই শিশু। এর আগে একদিনে এতসংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়নি।

সোমবার (৪ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো হাম সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, হাম নিয়ে গত একদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৪৫৬ জন। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩০২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৬৭ জন।

১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।  

আরও পড়ুন

বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী

হাম আক্রান্তদের দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আশপাশের অনেকেই সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। প্রথম দিকে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, এসব উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত তিন থেকে চার দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ ওঠে, যা হামের প্রধান লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।

Ham1
সারাদেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

টিকার আওতায় আসার কারণে বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি অনেক বছর ধরেই নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদানে ঘাটতির কারণে রোগটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

আরও পড়ুন

হামে আক্রান্তদের ৭৪ শতাংশই টিকা পায়নি: মহাপরিচালক

যেসব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া যাবে না

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ৯৫ শতাংশ মানুষ টিকা পেলে সংক্রমণ ছড়ায় না। কিন্তু আমাদের দেশে গত দেড়-দুই বছরে এই হার নেমে এসেছে প্রায় ৫৭ শতাংশে। হামের টিকা দুই ধাপে দেওয়া হয়, প্রথমটি ৯ মাসে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাসে। কিন্তু অনেক শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে পূর্ণ সুরক্ষা পাচ্ছে না তারা। বিশ্বে প্রথম ডোজের কভারেজ প্রায় ৮৬ শতাংশ হলেও দ্বিতীয় ডোজ ৭৪-৭৫ শতাংশে নেমে যায়। দেশে দুই ডোজ মিলিয়ে গড় হার আরও কম।

জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। এ কারণে সরকার সম্প্রতি টিকার প্রথম ডোজ ৬ মাসে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। 

জেবি