আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ মে ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত একটি ক্রুজ জাহাজে তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হান্টাভাইরাস সংক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অসুস্থ ছয়জনের মধ্যে একজনের পরীক্ষায় ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও পাঁচটি সন্দেহভাজন ঘটনা তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে ছড়ানো এই বিরল ভাইরাসে শ্বাসতন্ত্রসহ শরীরের একাধিক অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হলেও সংক্রমণের ধরন ও বিস্তার নিয়ে এখনো বিস্তারিত যাচাই চলছে।
হান্টাভাইরাস কী, ছড়ায় কীভাবে?
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর থেকে ছড়িয়ে পড়ে। বিরল এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শরীরে একাধিক জটিল সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে জ্বর, পালমোনারি সিনড্রোম (শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা) দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভাইরাসটি ইঁদুরের মল-মূত্র ও লালা থেকে ছড়ায়। এগুলো ধূলিকণার সঙ্গে মিশে শুকিয়ে যাওয়ার পর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। ভাইরাসবাহী কোনো বস্তুর সংস্পর্শে এলে বা সেটা খেলে অথবা এই ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত পশুর কামড়েও এই রোগ ছড়াতে পারে।
লক্ষণগুলো কী কী
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ক্লান্তি, জ্বর, পেশিতে ব্যথ্যা, মাথা যন্ত্রণা, চোখে ঝাপসা দেখা ও পেটের সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা না হলে কাশি, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। করোনাভাইরাসে মৃত্যুহার যেখানে আক্রান্তদের ২ থেকে ৩ শতাংশের মতো, সেখানে হান্টাভাইরাসে মৃত্যুহার ৩৮ শতাংশ বলে দাবি করছেন গবেষকেরা।
সুইডিশ বিজ্ঞানী সুমাইয়া শেইখ বলেছিলেন, ‘১৯৫০–এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়ার মধ্যকার যুদ্ধে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর মিলেছিল। এটি ইঁদুর থেকে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের শরীরে যদি ইঁদুরের শরীরের তরল কিছুর ছোঁয়া লাগে, তবে এটি ছড়ায়। মানুষ থেকে মানুষের মধ্য সংক্রমণের ঘটনা বিরল।’
সিডিসি বলেছে, আট সপ্তাহ পর্যন্ত হান্টাভাইরাসের লক্ষণগুলো দেখা যায়। প্রস্রাব, আক্রান্ত ব্যক্তির লালায় লক্ষণগুলো থাকে। এ ভাইরাস সংক্রমিত ইঁদুর বা ইঁদুরের কামড় থেকেও হতে পারে।
কিছু গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা হবে। তথ্যসূত্র: টুইটার ও নিউইয়র্ক পোস্ট
আগেও শনাক্ত হয়েছিল হান্টাভাইরাস
করোনাভাইরাসে উৎপত্তিস্থল চীনে প্রথম হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। ২০২০ সালের মার্চে দেশটির ইউনান প্রদেশের এক বাসিন্দা শ্যানডং প্রদেশে যাওয়া সময় হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
এছাড়া একই বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দুইজন।
এবার আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত একটি ক্রুজ জাহাজে সন্দেহভাজন হান্টাভাইরাস সংক্রমণে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংক্রমণের ঘটনাটি ঘটে এমভি হন্ডিয়াস নামে একটি পর্যটকবাহী জাহাজে, যা আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। এছাড়া অসুস্থ ছয়জনের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।
এমআর