images

হেলথ

কলেরা নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলক গবেষণা শুরু করবে আইসিডিডিআরবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ মে ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

দেশের এখনও বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা কলেরা। যদিও রোগটির নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও আসেনি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। এমতাবস্থায় রোগটি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ ও সীতাকুণ্ডে কলেরার ঝুঁকিপূর্ণ্ এলাকা বিবেচনা করে এর প্রতিরোধ কৌশল নির্ধারণে একটি পরীক্ষামূলক গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার মহাখালীর সাসাকাওয়া সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সূচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। গবেষণাটির মূল লক্ষ্য হলো প্রমাণভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কলেরার ক্ষুদ্র ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং সেসব এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি কমানো।

এই গবেষণায় অর্থায়ন করছে ইউনিসেফ এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)। পাশাপাশি ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর), কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) এবং আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে গবেষণাটি বাস্তবায়ন করবে।

সভায় আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. ফিরদৌসী কাদরি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কলেরার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। একই সঙ্গে অর্থায়ন সংকট, টিকার ঘাটতি ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি বলেন,  ‘বর্তমানে মাইক্রো-হটস্পট চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

ইউনিসেফ বাংলাদেশের ওয়াশ বিভাগের প্রধান ডা. পিটার জর্জ এল মেস বলেন, এই পদ্ধতি সফল হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রয়োগ করা যেতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

সভায় আরও ছিলেন আইএফআরসির এশিয়া প্যাসিফিক ইমার্জেন্সি হেলথ কো-অর্ডিনেটর ডা. অভিষেক রিমাল এবং আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ডা. আশরাফুল ইসলাম খান। তারা গবেষণার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য প্রতিরোধ কৌশল তুলে ধরেন।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি শাখার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার সামসাদ রব্বানী খান এ উদ্যোগকে দেশের রোগ নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ভবিষ্যতে এ পদ্ধতি নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা, চিকিৎসা সক্ষমতা এবং ওয়াশ কার্যক্রম থাকা সত্ত্বেও কলেরা এখনো বিদ্যমান। তাই সুনির্দিষ্ট হটস্পট চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সভায় ইউনিসেফ, আইইডিসিআর, আইএফআরসি, সিডিসি, ডিজিএইচএস এবং আইসিডিডিআর,বির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা গবেষণার পরিধি, বাস্তবায়ন কৌশল এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এসএইচ/ক.ম