images

হেলথ

 অসংক্রামক রোগ ও মৃত্যু কমাতে পারে ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর নীতি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। 

তাদের মতে, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশান-২ এর একটি হোটেলে ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং সম্পর্কিত শক্তিশালী ও কার্যকর বিধান প্রণয়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিমত তুলে ধরেন। 

সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স, পাবলিক হেলথ ল’ ইয়ার্স নেটওয়ার্ক এবং সিটিজেন নেটওয়ার্ক (সিনেট)।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই অসংক্রামক রোগজনিত। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও স্যাচুরেটেড বা ট্রান্স-ফ্যাটসমৃদ্ধ মোড়কজাত খাদ্য ও পানীয় এই ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চটকদার প্যাকেজিং ও পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক তথ্যের অভাবে ভোক্তারা অনেক সময় বিভ্রান্ত হন। এ অবস্থায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ভোক্তাদের সহজ ও স্পষ্ট তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তারা জানান, চিলি, কানাডাসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং চালুর ফলে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে এবং খাদ্যশিল্পে পণ্যের উপাদান পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী এ ধরনের লেবেলিং ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খসড়া নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। 

একই সঙ্গে তারা বলেন, কার্যকর ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট সতর্কতামূলক প্রতীক, নির্ধারিত ফন্ট সাইজ, উচ্চ দৃশ্যমান রঙ, বাধ্যতামূলক আইনি কাঠামো, শক্তিশালী মনিটরিং ও জরিমানার ব্যবস্থা এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রয়োজন।

সভা শেষে বক্তারা বলেন, ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং কেবল একটি তথ্য ব্যবস্থা নয়, এটি একটি শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য নীতি। বৈজ্ঞানিক ও বাধ্যতামূলকভাবে এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, বিএসটিআই’র উপপরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার সামিনা ইশরাত, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ড. আবরারসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। 

এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এএইচ