images

হেলথ

জেলা হাসপাতালকে রেফারেল সেন্টার করতে চাই: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে বিশেষ রেফারেল সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইউএইচএফপিওদের নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয় করে সেকেন্ডারি হেলথ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে বিশেষ রেফারেল সেন্টার গড়ে তুলতে চাই। যেখানে হৃদ রোগ, ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিস, ট্রমা কেয়ার, আইসিইউসহ এই জরুরি বিষয়গুলোকে আমরা সন্নিবেশিত করবো বলে আমাদের পরিকল্পনা আছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, উপজেলা এবং জেলাকে কেন্দ্র করে এই বিশেষায়িত সেবাগুলো যেমন গড়ে উঠবে, একইসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো হবে মা নবজাতক এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার একটা মূল কেন্দ্র। আমরা সবাই জানি সারাদেশে এই স্বাস্থ্য সেবাগুলোর ব্যাপক অপ্রতুলতা আছে এবং ব্যাপক চাহিদা আছে। তাই এগুলোকে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সুন্দর ব্যবস্থা গড়ে তুললে, আপনাদের নেতৃত্বে প্রতিটি উপজেলায় মা এবং নবজাতকরা এই সেবাগুলো পাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

অ্যাম্বুলেন্স সমস্যা নিরসনে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘হাসপাতালের রোগীগুলোকে যখন একটা লেভেল থেকে আরেকটা লেভেলে যেতে হয়, আমাদের যোগাযোগে অ্যাম্বুলেন্স অপ্রতুলতা দেখা যায়। যোগাযোগের সুব্যবস্থা জন্য সেই অ্যাম্বুলেন্সকে নিয়ে আমরা ন্যাশনাল অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়ে তুলতে চাই।’

ইউএইচএফপিওদের উদ্দেশ করে এম এ মুহিত বলেন, আমাদের দেশের প্রতিটি নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডটি নগদ টাকা দেবে না, তবে যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, তা হলো সুস্বাস্থ্য এবং সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা। ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আমরা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারব, ইনশাআল্লাহ। এই ইউনিক নাম্বারটি ব্যবহার করে দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসা নেওয়ার সময়, চিকিৎসকরা পূর্ববর্তী চিকিৎসা, প্রাপ্ত ওষুধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে ম্যালপ্র্যাকটিস যেমন, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও টেস্টের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা আসবে, যা জনগণের দুর্দশা কমাতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি নিজেকে আপনাদেরই একজন মনে করি এবং আমাদের দৈনন্দিন কাজের বাস্তবতাগুলো একটু তুলে ধরতে চাই। আপনাদের অনেকেই দূরবর্তী হাওড়, চর, পার্বত্য অঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকায় কাজ করেন, যেখানে অবকাঠামো দুর্বল, জনবল সংকট রয়েছে এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জামগুলোর অভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আপনাদের কাজ করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এম এ মুহিত বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা শুধুমাত্র চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন না, তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব, তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্ব এবং ক্লিনিক্যাল সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য এই তিনটি রোল সঠিকভাবে পালন করতে হলে আমাদের চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, যাতে তারা দক্ষ নেতা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন এবং একইসঙ্গে আরও দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে নিজেদের উন্নতি করতে পারেন। 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/ক.ম