২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
প্রতি বছর মার্চে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব এন্ডোমেট্রিওসিস সচেতনতা মাস। এন্ডোমেট্রিওসিস নারীদের খুবই কমন, কিন্তু বহুল উপেক্ষিত একটি স্বাস্থ্য জটিলতা। দীর্ঘদিন তীব্র ব্যথা বা শারীরিক অস্বস্তি সহ্য করেও অনেক নারী বুঝতে পারেন না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত। তাই সময়মতো সঠিক তথ্য জানা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূলত জরায়ুর ভেতরে একটি বিশেষ আস্তরণ বা টিস্যু থাকে, যা মাসিক চক্রের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তেমন কোন টিস্যু যদি কোন কারণে জরায়ুর বাইরে, অর্থাৎ ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব বা পেলভিক এরিয়ার মতো অংশে লক্ষ্য করা যায়, তাকে এন্ডোমেট্রিওসিস বলা হয়। মাসিক চক্রের হরমোন পরিবর্তনের প্রভাবে এই টিস্যুগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়, যা জ্বালাপোড়া, ব্যথাসহ অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বব্যাপি প্রজননক্ষম নারীদের বড় একটি অংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত হলেও সচেতনতার অভাব ও ভুল ধারণার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগটির ডায়াগনোসিস বিলম্ব হয়ে থাকে।
এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হলেও কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়, যেমন; মাসিকের সময় অস্বাভাবিক পেটব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, ক্লান্তি, বমি ভাব বা হজমজনিত অস্বস্তি, সহবাসকালীন ব্যথা, মাসিক চলাকালে অতিরিক্ত বা অনিয়মিত রক্তক্ষরণ, গর্ভধারণে সমস্যা বা বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব লক্ষণকে ‘স্বাভাবিক মাসিকের ব্যথা’ ভেবে অবহেলা করা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, নারীরা প্রায়ই মাসিক সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন। ফলে এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো রোগ অনেক সময় বছরের পর বছর ডায়াগনোসিস বিলম্ব অবস্থায় থেকে যায়। সময়মতো রোগটি শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, রোগের বৃদ্ধি রোধ এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এন্ডোমেট্রিওসিস নির্ণয়ের জন্য রোগীর লক্ষণ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআই কিংবা কিছু ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপি’র পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা হয়। এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা রোগীর বয়স, লক্ষণ এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। তবে সাধারণত চিকিৎসার মধ্যে; ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ, হরমোনাল থেরাপি, প্রয়োজন অনুযায়ী মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি করা হতে পারে। এমন রোগের ক্ষেত্রে নির্ভুল পরীক্ষার জন্য আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং সঠিক পরামর্শের জন্য অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেক্ষেত্রে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম হতে পারে নিরাপদ গন্তব্য। এখানে আধুনিক গাইনোকোলজি সেবা, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতার সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসা প্রদান করেন। এছাড়া, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পার্সনালাইজড চিকিৎসা পরিকল্পনার ব্যবস্থাও করা হয়।
এন্ডোমেট্রিওসিস মরণব্যাধি না হলেও এটি নারীদের দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিশ্ব এন্ডোমেট্রিওসিস সচেতনতা মাস উপলক্ষে নারীদের প্রতি আহ্বান, যেন তারা সুস্থতাকে গুরুতে দেয়, স্বাস্থ্য জটিলতাকে লজ্জা বা সংকোচের আড়ালে না রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করে।
লেখক:
ডা. শ্রাবণী চক্রবর্তী
এমবিবিএস, এফসিপিএস (অবস অ্যান্ড গাইনি), গাইনি ল্যাপারোস্কোপিক এন্ড হিস্টেরোস্কোপিক সার্জন, ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট
সিনিয়র কনসালটেন্ট, অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম