images

হেলথ

বাবা-মা ও স্ত্রী ছিল আমার অনুপ্রেরণা: বিরূপাক্ষ পাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫৫টি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে ষষ্ঠতম স্থান অর্জন করেছেন বিরূপাক্ষ পাল। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, ৫৫টি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ষষ্ঠতম হয়েছেন ডিএমসির কে-৭৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বিরূপাক্ষ পাল। এই ফলাফল অর্জন করতে তাকে করতে হয়েছে ব্যাপক পরিশ্রম ও অধ্যবসায়। মেডিকেল শিক্ষার্থীরা সাধারণ এমবিবিএসের সময়টাতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন না। এরমধ্যে বিরূপাক্ষ পালের ঘটনাটি ব্যতিক্রম, তিনি এমবিবএসে থাকাকালীন করেছেন বিয়ে। তবু তার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেনি, উল্টো তিনি ভালো ফলাফল করেছেন এবং অর্জন করেছেন ষষ্ঠতম স্থান। এমন ব্যতিক্রম ঘটনা নিয়ে মেডিকেলজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বিরূপাক্ষ পাল।

অনুভূতি জানতে চাইলে বিরূপাক্ষ পাল ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে। আসলে এই প্রফেশনাল পরীক্ষাটা আমার জন্য অনেক কষ্টকর ছিল। বাসার পাশে ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল, শব্দে পড়াশোনাও ঠিক মতো করতে পারিনি। আমি আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম, এবার মনে হয় ভালো করা সম্ভব না এবং কোনোভাবে পাসটা করি। কষ্টের পর ভালো ফলাফল পাওয়ায় অনেক ভালো লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘বাবা-মা মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তারা অনুপ্রেরণা দিতেন এবং আমার বাবা চক্ষু বিশেষজ্ঞ। ছোটবেলা থেকে বাবা দেখেছি চিকিৎসা বিদ্যায় আছে এবং অনেক সময় বাবা চেম্বার এবং হাসপাতালে গিয়ে থাকতাম। আব্বু আম্মুর প্রচেষ্টা ছিল। আম্মু শিক্ষকতা করতেন। তিনি আমার জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। আর আমার স্ত্রীরও সাপোর্ট ছিল। আমার স্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেলে পড়ে। দু'জন মিলে পড়াশোনা করছি। এটাই ছিল আমার অনুপ্রেরণা।’

MBBS2

বিরূপাক্ষ পাল বলেন, ‘জীবনে একজন সাপোর্টার থাকা উচিত। যদি বউ ভালো এবং সাপোর্টিভ হয়, তাহলে বিয়ে কোনো প্যারা না। আবার কেউ কেউ সাপোর্ট পায় না; এটা ভেবে অনেকেই বিয়ে করতে চায় না। আমার মনে হয়, সাপোর্টিভ বউ পেলে জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া যায়। আমার বউয়ের দিক থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা আছে এবং আমিও সহযোগিতা করি। দুদিক মিলিয়ে সমান সমান থাকে আমার কাছে কোনো সমস্যা মনে হয় না এবং জীবনটা উপভোগ করি।’

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্যে দুর্দশায় ডাক্তাররাই দায়ী ৫০ ভাগ

তিনি বলেন, ‘ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষাটাও ভালোভাবে শেষ করতে চাই। তারপর ইন্টার্ন করে এফসিপিএস করার ইচ্ছা আছে। কার্ডিওলজি বা নিউরোলজিতে পড়ার ইচ্ছা। সামনে ফাইনাল প্রফটা চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে। ভালো করে পড়াশোনা করতে চাই। আমার পরিবার এবং বউ খুবই সহযোগিতা করেন। এখন আমার কাজ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া।’

বিরুপাক্ষ পালের জন্ম ও বেড়ে উঠা ফেনী জেলায়। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি এবং ২০২১ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন তিনি। ২০২১-২২ সেশনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন তিনি। বিরূপাক্ষ পাল ফাস্ট প্রফেশনাল পরীক্ষার সিলেবাসে থাকা তিনটিতেই অনার্স মার্ক পেয়েছেন। এছাড়া তিনি সেকেন্ড প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মাকোলজিতে অনার্স মার্ক পেয়েছেন। সেইসঙ্গে বিরূপাক্ষ পাল তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার সিলেবাসে থাকা তিনটি কমিউনিটি মেডিসিন,প্যাথলজি ও মাইক্রোবায়োলজি) সাবজেক্টেই অনার্স মার্ক পেয়েছেন।

এসএইচ/জেবি