images

হেলথ

সচেতনতা ছাড়া থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, বংশগত রোগ থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৭ মার্চ) ঢাকার গ্রীন রোডের তাহের ভবনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত বিটিএস লটারির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। এই সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই এই ব্যয় বহন করতে সক্ষম নন। তাই আগাম সতর্কতা গ্রহণের মাধ্যমে রোগটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ যত্ন ও সহায়তা দিতে পারলে তারা সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারে। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আক্রান্তদের জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

থ্যালাসেমিয়া সমিতির নেতাদেরকে রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, নীতিগত উদ্যোগ এবং চিকিৎসা সহায়তা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বা দলিল প্রস্তুত করে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশে যেন কোনো শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম না নেয়, সে লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধা নওশীন তানজীম ও লুবাবা তাসনীম তাদের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দুই অভিভাবক তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং থ্যালাসেমিয়া শনাক্তে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস পরীক্ষা বিনামূল্যে করার প্রস্তাব দেন। তারা একটি বিশেষায়িত থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং রোগটি সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়াতে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রতিমন্ত্রী বিটিএস লটারি ২০২৫-এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেন এবং তাদের অভিনন্দন জানান। তিনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি থ্যালাসেমিয়া রোগী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সমিতির কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

অনুষ্ঠানে সৈয়দ দীদার বখত, অধ্যাপক ডা. এম এ খানসহ বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির উপদেষ্টাগণ ও বিটিএস নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
 
এএইচ/ক.ম