নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। অসচেতনতা ও রোগ শনাক্তে আর্থিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা টেকসই উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
গত এক বছরে বিশ্বে অসংক্রামক রোগে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশেও প্রতিবছর মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে এসব রোগে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব হাসপাতালেই হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে। শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও এসব রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়ায় রাজধানীকেন্দ্রিক চাপও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রোগীরা বলছেন, ঢাকার বাইরে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাজধানীতে আসতে হয়। এতে চিকিৎসা ব্যয় যেমন বেড়ে যায়, তেমনি নষ্ট হয় সময়ও।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অসংক্রামক রোগে বিশ্বে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশই নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশের বাসিন্দা।
চিকিৎসকদের মতে, এসব রোগ থেকে রক্ষা পেতে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপন, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং দূষিত পরিবেশ এড়িয়ে চলাই ব্যক্তি পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা সচেতনতা জরুরি’
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ড. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বর্তমানে ক্যান্সার, হৃদ্রোগ, কিডনি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
টিবি হাসপাতালের পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ব্যক্তি সচেতন না হলে এই ঝুঁকি কমানো কঠিন। মানুষ এখন বাইরে বের হচ্ছে কম, জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে অনলাইনভিত্তিক। ফলে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অসংক্রামক রোগের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোনায়েমুল ইসলাম সিজার বলেন, গত ২০–২৫ বছরে সরকারের মূল জোর ছিল চিকিৎসাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর। এখন প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগে বেশি মনোযোগ দেওয়া। তা সম্ভব হলে আগামী দুই দশকে অসংক্রামক রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।
এআর