নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশন বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল: অপ্রয়োজনীয় সিজার আর নয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয়। উন্নত দেশে হার কম, উন্নয়নশীল দেশে বেশি। আমাদের দেশে গ্রামে কম, শহরে বেশি। সরকারি হাসপাতালে কম, বেসরকারিতে বেশি।’
ডা. জাফর বলেন, একদিকে মানুষ চায় পেইনলেস ডেলিভারি ও নিরাপদ সন্তান। আবার অন্যদিকে নরমাল ডেলিভারির জন্য কোথাও দীর্ঘ লাইনও দেখা যায়। কখনো কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেটাকে ঘিরে হইচই শুরু হয়। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো সেবাগ্রহীতাদের সঠিক তথ্য দেওয়া, তাদের সচেতন করা এবং সম্পৃক্ত করা। জনগণকে সঙ্গে না নিলে কোনো প্রকল্পই সফল হবে না।
‘আমি নিজেও মনে করি, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমার দায়িত্ব অর্থহীন। সব তথ্য আমার একার কাছে থাকে না। এখানে সবাইকে মিলেই কাজ করতে হবে। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা বেসরকারি খাত থেকে আসে, তাদের অবদান স্বীকার করা, সম্মান করা ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সেখানে বড় গ্যাপ রয়েছে। যেমন—অনেক ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই বা নবায়ন হয়নি। এই অসামঞ্জস্যতা দূর করা জরুরি। সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও—সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ বলেন এই চিকিৎসক।
অধ্যাপক জাফর বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে জাতীয় নির্দেশিকা ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর তৈরি করেছি। এখন প্রয়োজন সঠিক বাস্তবায়ন। সেবাদানকারীদের শুধু সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, দক্ষতা ও গুণগত মান বাড়াতে হবে।’
অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের দায়িত্ব হলো এসব বাস্তবায়নে কার্যকর সমন্বয় করা। আমাদের দরজা সবসময় খোলা। আরেকটি বিষয় হলো—নারীদের জন্য আলাদা ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। আমাদের দেশে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও হাসপাতালগুলোতে তাদের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। এই বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। অনেকে বলেন, নারীদের কথা কেউ শোনে না। আমি বলব—এখন অনেক নারী নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজ এখানে তাঁদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ। আমরা হয়তো দেরিতে এসেছি, কিন্তু আমরা এসেছি—এটাই ইতিবাচক দিক।’
এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, আমরা যারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করব। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাইমারি হেলথকেয়ার। সেই ধারাবাহিকতায় মাতৃস্বাস্থ্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি—স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আমাদের ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সরকারকে পরিকল্পনা ও বাজেটের মাধ্যমে এই বিষয়গুলোকে এগিয়ে নিতে হবে।
মহাপরিচালক বলেন, আমাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সবসময় বলেন—যা আছে, তা দিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন সমন্বয়, ইন্টিগ্রেশন, রেজিলিয়েন্স ও টেকসই ব্যবস্থা। তিনি বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে একই পথে হাঁটছি, দিন শেষে মনে হয় আমরা খুব বেশি এগোতে পারিনি। এখানেই আমাদের দুর্বলতা। এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
‘দেশে ১৪ হাজার ক্লিনিকের মধ্যে আট হাজারের নিবন্ধন নেই। তারা নবায়ন করেনি।’বলেও জানান মহাপরিচালক।
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমানসহ চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ/ক.ম