নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭ এএম
বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির ৩১তম বার্ষিক সম্মেলনে বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও প্রি-কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সংগঠনটির আয়োজিত এই সম্মেলনে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন, প্যানক্রিয়াটিক স্টোনের আধুনিক চিকিৎসাসহ দেশে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। অচিরেই লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনসহ একাধিক বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ. কে. আজাদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (মেডিক্যাল এডুকেশন) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফজিলা-তুন-নেছা মালিক।
এ সময় বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহছেন, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদসহ সোসাইটির সদস্য এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় অধ্যাপক এ. কে. আজাদ খান বলেন, ‘গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিজনিত রোগ বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এসব রোগের উন্নত চিকিৎসাসেবা জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।’
অধ্যাপক শাহিনুল আলম বলেন, ‘গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার রোগের চিকিৎসায় নির্ভুল রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ এবং ক্লিনিক্যাল অডিট নিশ্চিত করা জরুরি।’
এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয় স্মরণীতে মিলিটারি মিউজিয়াম এম্ফিথিয়েটারের একটি রেস্টুরেন্টে সম্মেলন উপলক্ষে প্রি-কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম অবশ্যই সফল করতে হবে। দেশের মানুষের জন্য এই সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশসহ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন যেন না হয়, সে লক্ষ্যেই চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অগ্রগতির মাধ্যমে দেশকে সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় নিয়ে যেতে চিকিৎসক সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, লিভার সিরোসিসসহ লিভারের শেষ পর্যায়ের রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশে লিভার প্রতিস্থাপন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে লিভার প্রতিস্থাপনের অবকাঠামো উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
এ ছাড়া প্যানক্রিয়াটিক স্টোনের আধুনিক চিকিৎসা চালু হওয়ায় জটিল অস্ত্রোপচার ছাড়াই বহু রোগী দেশেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি এন্ডোস্কপিক আল্ট্রাসাউন্ড, ক্যানসারের অঙ্গসংরক্ষণকারী আধুনিক চিকিৎসা, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ভাসকুলার ইন্টারভেনশন এবং ইআরসিপি প্রশিক্ষণের জন্য সিমুলেটর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে।
এসএইচ/ক.ম