নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০১ এএম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে মালিকানাভিত্তিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফলে চিকিৎসা সেবা বাস্তবে স্বাধীন নয়। চিকিৎসক কোনো মহা বিদ্বান নন, তিনিও শ্রমিক। সরকারি হাসপাতালে সরকারের মালিকানা, বেসরকারি হাসপাতালে বিনিয়োগকারী মালিকের নিয়ন্ত্রণ। ফলে চিকিৎসা সেবা কোন জায়গায় কেমন হবে, তা মালিকই ঠিক করেন।’
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শীর্ষক গবেষণার ফলাফল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থার মতো স্বাস্থ্যখাতেও গভীর বিভক্তি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে চিকিৎসকেরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তার সঙ্গে আজকের অবস্থা তুলনা করলে দেখা যায়, জাতি কীভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। এই বিভক্তি চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সব স্তরে নেমে এসেছে।’
বাজেট সংকট ও মানবসম্পদ ঘাটতি প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্বাস্থ্য বাজেটে জিডিপির ১ শতাংশেরও কম বরাদ্দকে ‘গুরুতর অসামঞ্জস্য’ বলে মন্তব্য করেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে ২ হাজার ৪০০ বেড, কিন্তু রোগী থাকে ৪ হাজার ৫০০। ইমার্জেন্সি বিভাগে প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা চান।’
সাত মিনিট চিকিৎসা সময়ের মধ্যে কীভাবে মান বজায় থাকবে? প্রশ্ন রাখেন তিনি। তার দাবি, সংকট শুধু অর্থনৈতিক বা অবকাঠামোগত নয়, এটি মূলত মালিকানা ও নীতিনির্ধারণের কাঠামোগত সংকট।
অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে এবার প্রথমবার দেশে ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিষয়ে উচ্চতর কোর্স চালু হচ্ছে। মার্চ থেকে প্রথম ব্যাচ ভর্তি হবে। পাশাপাশি জেনেটিক মেডিসিন শিক্ষাও শুরু হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞ তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ আট-দশ বছরে বিশেষজ্ঞ হন। শুধু কোর্স চালু হলেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা বদলে যাবে না। যদি মালিকানা কাঠামো একই থাকে, তাহলে চিকিৎসার চরিত্রও একই থাকবে।’
অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও ‘ইমারজেক্ট’ উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মৃত্যুই ঘটে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই। তাই দ্রুত সেবা প্রদানে প্যারামেডিক ব্যবস্থা ও অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা জরুরি। এই লক্ষ্যে নতুন ‘ইমারজেক্ট’ উদ্যোগ চালু হয়েছে।’
অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে দক্ষ প্যারামেডিক ও উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সিস্টেম তৈরি হবে। তবে ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তৈরি হতে আরও ৫-৭ বছর লাগবে।’
এসএইচ/এফএ