ঢাকা মেইল ডেস্ক
২১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১৪ পিএম
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) তে আজ শুরু হলো তিন দিনব্যাপী বাংলা মেড এক্সপো ২০২৫। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যসেবার সর্বশেষ উদ্ভাবন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
এক্সট্রিম এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট সল্যুশন লিমিটেড আয়োজিত এ মেলায় অংশ নিয়েছে ১০টিরও বেশি দেশের ১২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। ৪০০-এর অধিক ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, পাকিস্তান, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ডসহ আরও অনেকে।
সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনীতে ৬ হাজার ৫০০-এরও বেশি ব্যবসায়ী দর্শক—যাদের মধ্যে চিকিৎসক, আমদানিকারক ও স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীরা রয়েছেন—অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আসরে প্রদর্শিত হচ্ছে নানা ধরনের পণ্য: সিরিঞ্জ, সার্জিকাল গ্লাভস, মাস্ক, সূঁচ থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ডিভাইস, ফিজিওথেরাপি সল্যুশন ও হাসপাতাল অবকাঠামো প্রযুক্তি পর্যন্ত।
এবারের প্রদর্শনী নয়টি বড় ক্যাটাগরিতে সাজানো হয়েছে—মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও ডিভাইস, ডিসপোজেবল ও কনজিউমেবলস, অর্থোপেডিক্স ও ফিজিওথেরাপি, ইমেজিং ও ডায়াগনস্টিকস, স্বাস্থ্যসেবা, আইটি সিস্টেম, অবকাঠামো ও সম্পদ, এবং ওয়েলনেস ও প্রতিরোধমূলক পণ্য।
বাংলাদেশের চিকিৎসা সরঞ্জামের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২০ সালে এ খাতের বাজারমূল্য ছিল ৪৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ৮২০ মিলিয়ন ছাড়াবে এবং ২০৩০ সালে ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর প্রসার এ বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি।

বর্তমানে ভারত ও চীন বাংলাদেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কনজিউমেবল আমদানির ২৫–৩০ শতাংশ জোগান দেয়, আর জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে প্রায় ১০–১৫ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে তাইওয়ান ও পাকিস্তানের শেয়ার ৩ শতাংশেরও কম।
উল্লেখযোগ্য প্রদর্শকদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশের মনির নিউরো স্পাইন সার্জিকাল মার্ট, ভারতের ব্রাউন গ্রুপ ও সফট ইমেজিং, পাকিস্তানের আয়মেড, এবং সুইজারল্যান্ডের রসম্যাক্স। স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, এই মেলা বাজার চাহিদা বুঝতে এবং শিল্পখাতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
প্রিসিশন মেডিক্যাল রিসোর্সেসের রাজিয়ান রব্বিন রিতু বলেন, “আমরা প্রতিবছর প্রদর্শনীতে অংশ নিই। এতে গ্রাহকের চাহিদা বোঝা যায়, পণ্য উন্নত করার সুযোগ হয় এবং বাজারে ব্র্যান্ড উপস্থাপনের সেরা প্ল্যাটফর্ম এটি।”
ইসলামিক ট্রেডিংস-এর সহকারী ম্যানেজার (বিক্রয়) মোহসিন জানান, “আমরা চীন ও ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করি। চীনের সিনোকেয়ারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমরা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এনেছি নতুন POCT অ্যানালাইজার iCare1300। তবে সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ এখনো চ্যালেঞ্জিং।”
তরুণ পেশাজীবীদের জন্যও এ মেলা একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। সায়েন্স কলেজ অব মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী প্রীতম পাল বলেন, “এমন প্রদর্শনীতে এসে আমরা সরাসরি নতুন অনেক যন্ত্রপাতি দেখতে ও শিখতে পারি। তাই আমাদের কলেজ থেকে আসতে উৎসাহিত করা হয়।”
শুধু পেশাজীবীরাই নয়, নতুন উদ্যোক্তারাও খুঁজছেন ব্যবসার সুযোগ। পেশায় আইনজীবী হলেও ব্যবসায় আগ্রহী রাসেল খান বলেন, “আমি বাজার চাহিদা, আমদানির ধারা এবং সরবরাহকারী দেশগুলোর তথ্য বুঝতে এখানে এসেছি। ভবিষ্যতে চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলা মেড এক্সপো শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে বাংলাদেশে প্রবেশে সহায়তা করেছে এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। এটি শুধু বাণিজ্য নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক অগ্রগতির সঙ্গেও যুক্ত—সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও টিকাদান কার্যক্রম পর্যন্ত।
বাংলা মেড এক্সপো ২০২৫ চলবে আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত, আইসিসিবি-তে।
এইচজে/এএস