Dhaka Mail Logo

হেলথ

ঢাকার ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার উপস্থিতি: গবেষণা 

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম

ঢাকার ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার উপস্থিতি মিলেছে। সিসার পরিমাণ ৬৭ মাইক্রো গ্রাম বা তার বেশি, যা উদ্বেগজনক বলছেন গবেষকরা। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) করা এক গবেষণায় এ তথ্য মিলেছে। 

বুধবার (৬ আগস্ট) এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআরবি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. জেসমিন সুলতানা ২০২২‑২৪ সালের মধ্যে ঢাকায় পরিচালিত একটি সামগ্রিক গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরেন। গবেষণায় ২ থেকে ৪ বছর বয়সি ৫০০ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তিনি জানান, প্রতিটি শিশুর রক্তে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার উপস্থিতির মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রাম/লিটারের চেয়ে বেশি ছিল। 

Child2

এই গবেষণায় দেখা যায়, সিসানির্ভর শিল্প স্থাপনার ১ কিলোমিটার মধ্যকার বসবাসকারী শিশুদের রক্তে সিসার পরিমাণ ৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি কিলোগ্রাম, যা দূরস্থানীয় শিশুদের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। সিসার অন্যান্য উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘরের ধুলা-ময়লা, সিসাযুক্ত প্রসাধনী সামগ্রী ও রান্নার পাত্র।

এই আলোচনা সভায় সীসানির্ভর শিল্প স্থাপনা, যেমন লেড–অ্যাসিড ব্যাটারি তৈরি বা রিসাইক্লিং কারখানা বা স্থান, অথবা যেসব কারখানা বা স্থাপনায় সিসা গলানো বা পোড়ানো হয়, এগুলোকে দ্রুত বন্ধ করার সুপারিশ জানানো হয়। কারণ, এই স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিয়ে বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে এলাকার শিশুদের সঠিকভাবে সিসা থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

আইসিডিডিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, সিসার বিষক্রিয়া নীরবভাবে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ সংকুচিত করে দিচ্ছে। এটি তাদের মেধা ক্ষমতা ও সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই আমাদের দ্রুত সীসা নিয়ন্ত্রণ নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, যাতে প্রতিটি শিশু সুস্থ হয়ে দেশ উন্নয়নের কাজে অবদান রাখতে পারে।

আলোচনা সভায় আইসিডিডিআরবি ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক অংশ নেন। পরে দেশের শিশুদের জন্য একটি সুস্থ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভাটি শেষ হয়।

এসএইচ/এএইচ