নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৬ পিএম
চিকিৎসক ও লেখক অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী মারা গেছেন। ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান তিনি।
দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর মাল্টিপল মায়েলোমা নামক রক্তের ক্যান্সারে ভুগছিলেন শুভাগত চৌধুরী। সকালে বাসায় অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুপরিচিত এই লেখকের ভাই ডা. অরূপ রতন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অরূপ রতন চৌধুরী জানান, শুভাগত চৌধুরীর দুই মেয়ে দেশের বাইরে থাকেন। তারা এলে শেষকৃত্য নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আপাতত হাসপাতালের হিমঘরে মরদেহ রাখা হবে।
১৯৪৭ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেটে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। তিনি কলকাতায় শান্তিনিকেতনেও কিছুকাল পড়ালেখা করেন। পরে চিকিৎসা বিষয়ে আগ্রহী হয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ালেখা করেন।
চাকরিসূত্রে এক পর্যায়ে ভারতে চলে যায় তার পরিবার। পরে দাদার মৃত্যুর পর পুনরায় পাকিস্তানে ফিরে আসেন।
১৯৬১ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন শুভাগত চৌধুরী। দুই বছর পর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে ভর্তি হন। তবে সেখানে পড়াশোনা করেননি তিনি। ভর্তি হন সিলেট মেডিকেল কলেজে। ১৯৬৯ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। একই বছর বায়োকেমিস্ট্রির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী। এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাতে যোগ দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আইপিজিএমআর লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি অর্জন করেন তিনি। এরই মধ্যে ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রির উপর এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
ডা. শুভাগত চৌধুরী ১৯৮০ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে চলে যান। সেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালে চিকিৎসা শিক্ষার উপর গবেষণা শুরু করেন। এ ছাড়া নব্বইয়ের দশকে পুনরায় ইংল্যান্ডে যান অধ্যাপক শুভাগত। তবে সেবার চিকিৎসা শিক্ষার বিশেষজ্ঞ হিসেবে। সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি।
ডা. শুভাগত এরই মধ্যে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। ২০০১ সালের দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন হন তিনি। ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এক বছর চাকরি করেন। তার পরে বহু বছর ধরে বারডেম হাসপাতালের ডিরেক্টর ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস পদে চাকরি করেন তিনি।
নিউইয়র্কের সায়েন্স একাডেমির নির্বাচিত সদস্যও ছিলেন অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী। গবেষণা, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য তিনি পশ্চিম আফ্রিকাসহ নানা দেশে ঘুরেছেন। প্রাণরসায়ন, পুষ্টি ও চিকিৎসা শিক্ষা পদ্ধতি ছিল তার গবেষণার বিষয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে দেশি-বিদেশি জার্নালে ৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তার। এ ছাড়া বইও লিখেছেন ৫০টির বেশি। চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদানের জন্য শেরেবাংলা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০২১ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারও। তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠে নিয়মিত দাওয়াই নামে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সচেতন কথিকা লিখতেন।
/এএস