নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৩ পিএম
রাজশাহীতে বরই খেয়ে অসুস্থ হয়ে দুদিনের ব্যবধানে দুই বোনের মৃত্যু নিপাহ ভাইরাসে হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে মারা গেছে, তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই দুই শিশুর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল না।’
দুই শিশুর হঠাৎ মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুধু এটুকু বলতে পারি, নিপাহ ভাইরাসে তাদের মৃত্যু হয়নি। অন্য কোনো ভাইরাসে হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা হয়নি।’
রাজশাহীতে মারা যাওয়া দুই বোনের নাম মুনতাহা মারিশা (২) ও মুফতাউল মাশিয়া (৫)। দুই শিশুর বাবা মনজুর হোসেন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক। তারা ক্যাডেট কলেজের কোয়ার্টারেই ছিলেন। তাদের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামে।
গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ছোট মেয়ে মারিশার জ্বর আসে। বিকেলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মাইক্রোবাসে মারা যায়। মৃত্যুর পর মা-বাবা লক্ষ করেন, মারিশার গায়ে কালো ছোপ ছোপ দাগ উঠেছে। ওই দিন রাতেই তাকে দাফন করা হয়। একদিন পর শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বড় মেয়ে মাশিয়ার একই লক্ষণসহ জ্বর আসে। সেও ছোট বোনের মতো বমি করছিল আর ঘন ঘন পানি খাচ্ছিল। লক্ষণ বুঝতে পেরে মা-বাবা দেরি করেননি। রাজশাহীর সিএমএইচে ভর্তি করেন। এরপর শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মারা যায় মাশিয়াও।
জানা যায়, দুই মেয়ে গৃহকর্মীর এনে দেওয়া বরই খেয়েছিল। গাছতলা থেকে কুড়িয়ে বরই এনে দিয়েছিলেন গৃহকর্মী।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, দুই মেয়ে বরই খেয়েছিল। বরইগুলো ধুয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তাদের বাবা জানান, ‘গৃহকর্মী গাছতলা থেকে কুড়িয়ে এনে দিয়েছিল, ধোয়া হয়নি।’
হঠাৎ করে দুই মেয়ের মৃত্যুর পর মা-বাবাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই শিশুর মৃত্যু নিপাহ ভাইরাসে না অন্য কোনো অজানা ভাইরাসে হয়েছে, তা নিশ্চিত করে চিকিৎসকেরা বলতে পারছিলেন না। এরপর তাদের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়।
এমএইচটি