নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:০১ পিএম
চিকিৎসকদের ওপর যত্রতত্র হামলা হলে সেটি আর মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ওপর অযাচিত হামলা হলে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত শরিয়তপুরের ডা. নুসরাত তারিন তন্বীকে দেখতে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) গিয়ে এ কথা জানান তিনি।
এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত শরিয়তপুরের ডামুড্ডা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত তারিন তন্বীর শারীরিক অবস্থার সরেজমিন খোঁজ নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. নুসরাত তারিন তন্বীর সাথে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজ নেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডা. তন্বীর ওপর হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন ডা. সামন্ত লাল সেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শরিয়তপুর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়ার পর ইতোমধ্যেই মুল আসামিদের আটক করেছে প্রশাসন। বাকি সন্ত্রাসীদেরও গ্রেফতারে কাজ চলছে। চিকিৎসকদের ওপর যত্রতত্র হামলা হলে সেটি আর মেনে নেওয়া হবে না। হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ডা. নুসরাত তারিন তন্বী জানান, নিম্নমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখতে রাজি না হওয়ায় ল্যাবএইড ফার্মার একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ শহীদুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে স্থানীয় নেতা জুলহাস মাতবর, লিখন মাতবরসহ প্রায় ১০-১৫ জন তার ওপর এই হামলা চালায়। হামলায় ডা. তন্বী ও তার স্বামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিও আহত হন। আহত অবস্থায় বাসায় পৌঁছালে হামলাকারীরা পুনরায় বাসায় গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে ডা. তন্বীর মাও হামলার শিকার হোন। পরবর্তীতে রাতে ডা. তন্বী ও তার মাকে শরিয়তপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এর আগে, গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ডা. নুসরাত তারিন তন্বী। হামলায় আহত অবস্থায় তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকেই সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনকে ফোন করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেদিনই ডা. তন্বীর সাথে বিস্তারিত কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ শরিয়তপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলেন এবং দ্রুততম সময়ে সন্ত্রাসী আসামিদের গ্রেফতার করার অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে সেদিন রাতেই মূল আসামি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ শহীদুল ইসলাম এবং পরদিন সকালে স্থানীয় নেতা জুলহাস মাতবরকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অন্যান্য আসামীদেরও দ্রুত গ্রেফতারের পাশাপাশি ডা. তন্বী ও তার পরিবারের আহত সদস্যদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ র্নির্দেশনা প্রদান করেন।
এর আগেও গত ২৯ জানুয়ারি যশোর চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে কর্মরত চিকিৎসক ডা. সোহাগ হামলার শিকার হন। তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ওইদিন রাতেই মামলা গ্রহণ করে আসামিকে যশোর থেকে আটক করে।
এমএইচ/এমএইচটি