Dhaka Mail Logo

হেলথ

ফের করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৪৭ পিএম

প্রতিবেশী ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাসের একটি ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বেড়েছে। যদিও বাংলাদেশে নতুন ধরনের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তবে এ অবস্থায় সতর্কতা হিসেবে দ্রুত নতুন করে টিকা বিতরণ ও দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) অধিদফতরের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স বিভাগের সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ফাইজার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজ (তৃতীয়, চতুর্থ ডোজ) বিতরণ এবং প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরেই কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ লক্ষ্যে সাত দফা নির্দেশনা প্রদান করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

নির্দেশনায় বলা হয়, জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় (ফাইজার আরটিইউ) এবং বুস্টার ডোজ (তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ ফাইজার ভিসিভি) ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী, ৬০ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং তদুর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব) জনগোষ্ঠী ও গর্ভবর্তী নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা শহরের ৮টি কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ অর্থাৎ ৩য় এবং ৪র্থ ডোজ ফাইজার ভিসিভি ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। কেন্দ্রগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিডফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারি হাসপাতাল।

পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও সরকারি হাসপাতাল, ঢাকার বাইরের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালসমূহে ভ্যাকসিন বিতরণের মাধ্যমে কোডিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে ফাইজার আরটিইউ ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়াবাজার ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে এই টিকা প্রদান করা হবে।

টিকা সংরক্ষণ ও প্রদানের পদ্ধতির বিষয়ে বলা হয়, ফাইজার ভিসিভি এবং আরটিইউ টিকার ডোজের পরিমাণ- ০.৩ এম এল (০৬ ডোজের ভায়াল) হবে। টিকা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জ: ০.৩ এম এল, প্রয়োগপথ: ডান বা বাম বাহুর উপরিভাগের ডেল্টয়েড মাংসপেশির মধ্যভাগে ৯০ ডিগ্রি কোণে হতে হবে। পরিবহনের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী থেকে ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস হতে হবে। টিকা গলানোর তারিখ থেকে ৭০ দিন পর্যন্ত ২ ডিগ্রী থেকে ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই ভ্যাকসিন সরংক্ষণ এবং ব্যবহার করা যাবে। গলানো ভ্যাকসিন কোনোভাবেই পুনরায় জমানো যাবে না। ভায়াল খোলার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। টিকা পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে আগের সরবরাহ করা AEFI গাইডলাইনের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে ভ্যাকসিনের নাম এবং তারিখ উল্লেখ করে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্ড সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে দেওয়া হবে। তৃতীয় এবং চতুর্থ ডোজ টিকার ক্ষেত্রে সুরক্ষা ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপ থেকে টিকাকার্ড ডাউনলোড করে সাথে আনতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরে পূর্ব নির্ধারিত উপায়ে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশনের রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।

এমএইচ/এএস