নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:১২ এএম
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ কয়েকটি দেশে ভাইরাসটির নতুন ধরন জেএন.১ সংক্রমণ ঘটেছে৷ এ অবস্থায় দেশে মাস্ক পরাসহ কোভিড প্রতিরোধে অন্যান্য জনস্বাস্থ্যমূলক ব্যবস্থা নিতে চার পরামর্শ দিয়েছে কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রাতে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির ৬৫তম সভায় এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা।
অধ্যাপক সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় কোভিড-১৯ এর সর্বশেষ পরিস্থিতি, নতুন ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক পরামর্শ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্বের বেশ কিছু দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ এবং এই ভ্যারিয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে এবং উক্ত ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত হয়নি। এর প্রেক্ষিতে জাতীয় পরামর্শক কমিটি মাস্ক পরাসহ কোভিড প্রতিরোধে অন্যান্য জনস্বাস্থ্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে।
বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যেমন হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদেরকে সতকর্তা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কমিটি মনে করে কোভিড-১৯ ছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে এটা সহায়ক হবে।
পরামর্শক কমিটির সভায় সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বৈশ্বিক রিপোর্ট পর্যালোচনা ও দেশে সার্ভিলেন্স জোরদার করার জন্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে কোভিড পরীক্ষা ও আইসিইউসহ দ্রুত চিকিৎসার সকল প্রস্তুতি রাখার সুপারিশ করা হয়। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং এর প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া কোভিড ভ্যাকসিন বিষয়ে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মোতাবেক উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চতুর্থ ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় সার্জারি অথবা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসার আগে কোভিড পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কমিটি কেবলমাত্র কোভিডের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলে কোভিড পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়।
এমএইচ/এমআর