নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৩৮ এএম
সর্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা এবং শক্তিশালী নাগরিক সংগঠন তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময় তারা চারটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘এক্সিলারিটিং প্রগ্রেস টুয়ার্ডস ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অতনু রব্বানী এবং ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্সের সহকারী অধ্যাপক ড. সুজানা করিম।
তারা জানান, গত এক দশকে দেশের স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে এ সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের একটু বেশি মানুষের কাছে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ইউএইচসি-এসসিআই পরিমাপ অনুযায়ী যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মধ্যে সর্বনিম্ন হার। বাংলাদেশ তার ইউএইচসি পরিষেবা কভারেজ সূচক এসসিআই ২০১৫ সালে ৪৫ স্কোর থেকে ২০২১ সালে ৫২ এ উন্নীত করেছে। তবে, এই বৃদ্ধিকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করা হয় এবং ন্যূনতম ইউএইচসি-এসসিআই লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ এ পৌঁছানোতে দেশের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ইউএইচসি-এসসিআই এর ১৪ টি ট্রেসার সূচকের মূল্যায়নে দেখা যায়, বাংলাদেশ টিকা, পরিবার পরিকল্পনা, টিবি ওষুধের কভারেজ এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করেছে। তবে অগ্রগতির বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ইউএইচসি লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে বলেও জানান ড. রব্বানী ও ড. সুজানা করিম।
সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এমএম রেজা বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। কারণ এটি ছাড়া ইউএইচসি অর্জন করা সম্ভব হবেনা। হেলথ কভারেজকে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের উপর নজর দিতে হবে। যেহেতু বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা স্বাস্থ্য-পরিষেবাগুলোতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এছাড়াও আমাদের স্বাস্থ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশগত প্রভাব এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম চিকিৎসা খাতে জবাবদিহিতার অভাবের কথা উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে অবহেলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা অবহেলার বিষয়ে আইন না থাকলে জবাবদিহিতা আসবে না। জীবন রক্ষার অধিকার যে রকম মৌলিক অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার ও তেমনি মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা যাতে না হয় তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এটি ইউএসসির অগ্রযাত্রায় সহায়ক হবে।
ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্সের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে, দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে এবং বিদ্যমান সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। তার জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা। চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতাদের জোরালো কণ্ঠে তাদের সমস্যা এবং দাবিগুলোর কথা উচ্চারণ করতে হবে। আর তাহলেই একটি জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অধ্যাপক রওনাক জাহান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিরাজমান প্রশাসনিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক বিষয়গুলো কখনও কখনও দীর্ঘ সময় নেয়। আমাদের এই ইস্যুতে বাধাগুলো চিহ্নিত করতে হবে, কারণ আমরা যদি বাধাগুলো অপসারণ করতে পারি তবেই সাফল্য অর্জিত হবে।
এ সময় ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে সেমিনারে বেশ কিছু সুপারিশ উত্থাপিত হয়। এগুলো হলো:
১. একটি শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা;
২. উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয়;
৩. জেনারেল প্র্যাকটিশনারদের (জিপি) অগ্রাধিকার; এবং
৪. জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ।
এমএইচ/একে