নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:৫৩ পিএম
দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা না কমে উল্টো বাড়ছে জানিয়ে এই অবস্থাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান অডিটোরিয়ামে ‘ডেঙ্গু ড্রপস’ অ্যাপসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত প্রয়াসের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, দায়িত্ববান সরকারি কর্মকর্তাসহ আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আশপাশে পানি জমতে পারে- এমন পাত্র পরে আছে কি-না বা তাতে পানি জমে আছে কি-না, তা দেখতে হবে। আমরা সকলে মিলে কাজ করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।
মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর সেবার ব্যাপারে আমাদের ঘাটতি নাই। তবে মশা না কমলে ডেঙ্গু রোগীও কমবে না। আর ডেঙ্গু রোগী বাড়লে মৃত্যুও বাড়বে। দেশে ওষুধের অভাব নেই তবে, এখনও ডেঙ্গু রোগী না কমে বাড়ছে। এটি উদ্বেগজনক।
ডেঙ্গু বিষয়ে উদ্ভাবিত অ্যাপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশেও উদ্ভাবন হয়, আমাদের ছেলেরাও যে উদ্ভাবন করতে পারে তারই নিদর্শন হচ্ছে ডেঙ্গু অ্যাপস। এর মধ্যদিয়ে ডেঙ্গু চিকিৎসায় বাংলাদেশ অনেকখানি এগিয়ে যাবে। রোগীরা ভালো চিকিৎসা পাবেন। এটি জীবন বাঁচাবে। আমাদের দেশের ইমেজও বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ‘ডেঙ্গু ড্রপস’ নামক অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিএমই এর সহযোগী অধ্যাপক ড. তওফিক হাসান।
অ্যাপ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘ডেঙ্গু ড্রপস’ অ্যাপস ডেঙ্গুতে গ্রুপ ‘বি-নন শক’ পেশেন্টের আইভি ফ্লুইড মেইনটেইনে সহযোগিতা করবে। অ্যাপসটি যেকোনো বয়সী পেশেন্টের জন্য ব্যবহার করা যাবে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি উপকারী হবে। এছাড়াও তরুণ চিকিৎসকদের রোগীর আইভি ফ্লুইড গণনায়ও সে অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদানে সাহায্য করবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সত্য প্রসাদ মজুমদার।
এতে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রমণ রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম, বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/আইএইচ