বিনোদন ডেস্ক
১২ নভেম্বর ২০২২, ০২:৩৮ পিএম
দুই বাংলা জয়ার প্রেমে বানভাসি। নেটমাধ্যমে তার অনুরাগীর সংখ্যা বিপুল। তারা প্রত্যেকে জানতে চান তার প্রত্যাহিক জীবনের নানা বিষয়। তিনিও মাঝে মাঝে চমক লাগানো ছবি, নানা বিষয়ে মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেন। তবে তার থেকেও বেশি কৌতূহল অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে।
পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই জয়া এই মুহূর্তে কোনো সম্পর্কে আছেন কি না— তা রহস্যে মোড়া থাকলেও তিনি যে একসময় গভীর প্রেমে ছিলেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
জয়ার প্রথম স্বামীর নাম ফয়সাল আহসান। ঢাকার জমিদার পরিবারের ছেলে তিনি। তার পূর্বপুরুষদের হাতেই গড়ে উঠেছিল সদরঘাটে অবস্থিত দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা আহসান মঞ্জিল। জয়ার সঙ্গে ফয়সালের পরিচয় ১৯৯৮ সালে। সেই প্রথম দেখার কথা ফয়সাল বলেছিলেন এক সাক্ষাৎকারে। কীভাবে শুরুর দিকের ‘তিক্ত সম্পর্ক’ প্রেমে রূপ নিয়েছিল, সে গল্পটাও তিনি বলেছিলেন ওই সাক্ষাৎকারে।

১৯৯৮ সালে একটি বিজ্ঞাপনে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন জয়া ও ফয়সাল। সেখানেই প্রথম দেখা। শুটিংয়ে এক ঘণ্টা দেরি করে আসেন ফয়সাল। মেকআপ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন জয়া। রেগে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন ফয়সালের ওপর। নানা তিক্ত কথা শুনিয়ে দেন। সেই রাগই পরে বদলে যায় অনুরাগে। ফোনে কথা বলতে বলতে পড়েন গভীর প্রেমে। সেই প্রণয় পরে গড়ায় পরিণয়ে।
দাম্পত্য জীবনের কোনো বিষয় নিয়েই কখনও মুখ খোলেননি জয়া বা ফয়সাল। বিয়ের পরও বিভিন্ন নাটক ও বিজ্ঞাপনে জয়ার সঙ্গে কাজ করছিলেন ফয়সাল। জনপ্রিয় তারকা জুটি হয়ে উঠেছিলেন তারা। ধানমন্ডিতে ‘প্রেমের সোপান’ নামে একটি ফাস্টফুডের দোকানও খুলেছিলেন। সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কয়েক বছর যাওয়ার পর ঘটে ছন্দপতন।
সেসময় জয়ার জনপ্রিয়তা বাড়ছিল হুহু করে। তুলনায় পিছিয়ে ছিলেন ফয়সাল। জয়ার সেই সাফল্যই তাদের দাম্পত্যে ফাটল ধরিয়ে দেয় বলে গুঞ্জন। মনোমালিন্য বাড়তে থাকে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বও ক্রমশ বাড়তেই থাকে।
ফয়সাল চেষ্টা করেছিলেন সংসারটা টেকাতে। কিন্তু জয়ার পক্ষ থেকে সায় ছিল না। শোনা যায়, ২০১১ সালে ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জয়া তাকে ডিভোর্স দেন। যদিও এই বিচ্ছেদের খবর তাদের দুজনের কেউই কখনও নিশ্চিত করেননি।

বিবাহবিচ্ছেদের পর কেটে গেছে ১১ বছর। জয়া এখনও একা। যদিও মাঝে মাঝে তার প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়। তবে সেসব নিয়ে কখনও মুখ খোলেন না তিনি।
জয়া এখন ঢাকা-কলকাতায় সমানতালে কাজ করছেন। বলা যায়, তিনি এখন টলিউডে বেশি ব্যস্ত। সেখানকার পরিচালকের ভরসার আরেক নাম তিনি।
অন্যদিকে ফয়সালও বিয়ে করেননি। শোবিজ ছেড়েছেন অনেক আগে। বর্তমানে রেস্টুরেন্ট, বুটিক হাউজ ও আমদানি-রফতানি ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। এ ছাড়া হকির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। হকির জনপ্রিয়তা বাড়াতে নিরবে কাজও করে যাচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি জাতীয় হকি ফেডারেশনের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্যও। এর সঙ্গে সাবেক হকি খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘ভ্যাটারান হকি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ফয়সাল।