বিনোদন ডেস্ক
২৬ আগস্ট ২০২২, ০৩:৪৪ পিএম
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাওয়া’ সিনেমাটিতে খাঁচাবন্দি শালিক পাখি প্রদর্শন ও হত্যার অভিযোগে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে নাটকে খাঁচাবন্দী ময়না পাখি প্রদর্শনের অভিযোগে নির্মাতা অনন্য ইমনের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।
মাঝে মাঝেই এমন আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে নাটক-সিনেমার নির্মাতাদের। সম্প্রতি প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকে। নাটকের শিল্পীদের নিয়ে গঠিত অভিনয়শিল্পী সংঘ এক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১২ টায় বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে টেলিভিশন নাটকের পরিচালকদের সংগঠন ‘ডিরেক্টরস গিল্ড’। ডিরেক্টরস গিল্ডের এক বিবৃতিতে তথ্যটি জানানো হয়।
পূর্ব নির্ধারিত এই বৈঠকে ডিরেক্টরস গিল্ডের পক্ষ থেকে চারটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো:
এক. নাট্যনির্মাতা অনন্য ইমন আর চলচ্চিত্র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের ওপর দায়ের করা মামলার দ্রুত সমাধান করা। কোন ধারায় কোটি টাকার মামলা হলো– তা অবগত করা। দুই. নাটক-সিনেমায় বন্যপ্রাণী বিষয়ক আইনের কোনো ধারা অমান্য করা হলে সরাসরি মামলা না করে যথাযথ ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে সুরাহা করা। তিন. নাটক-সিনেমায় গল্পের বিশেষ প্রয়োজনে বন্যপ্রাণী দেখানোর প্রয়োজন হলে বন অধিদফতরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্ট চালু করা, যেনো নির্মাতা বা প্রযোজক বন্যপ্রাণী ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা পেতে পারে। চার. খুব শিগগির স্টেক হোল্ডার ( পরিচালক, প্রযোজক ও লেখকদের নিয়ে বন অধিদফতরের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা। যেখানে আলোচনা হবে– নাটক-সিনেমায় কী কী দেখানো যাবে, আর কী কী দেখানো যাবে না। যেসব বণ্যপ্রাণী দেখানো যাবে না, তা দেখাতে হলে যা করতে হবে সে বিষয়েও আলোচনা হবে। এই আলোচনায় দেশের বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। গোলটেবিল শেষে প্রেস ব্রিফিং করতে হবে।
বৈঠকে উত্থাপিত ডিরেক্টরস গিল্ডের দাবিগুলো শুনে সাধুবাদ জানায় বন অধিদফতর। এর উত্তরে তারা বলে:
এক. মামলা হয়ে গেছে, এখন তা আদালত ফয়সালা করবেন। সেখানে বন অধিদফতর তাদের আইনজীবী নিয়োগ করবে না। (কয়েকটা হাজিরা হওয়ার পর এই মামলা সাধারণত শেষ হয়ে যেতে পারে) তবে ২০ কোটি টাকার বিষয়টা হলো, এই টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে না। প্রকৃতির ইকো সিস্টেমে এই পরিমাণ টাকার ক্ষতি হতে পারে। দেশের প্রচলিত আইনে উল্লেখ যা আছে, জজ সাহেব সে বিবেচনায় রায় দেবেন। হতে পারে এক হাজার বা এক লাখ। বন অধিদফতর ‘হাওয়া’ সিনেমা বন্ধে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি পর্যায়ের কেউ করে থাকতে পারে। এর সঙ্গে বন অধিদফতর জড়িত না। দুই. গল্পে যদি বন্যপ্রাণী বিষয়ক কোনো ঘটনা থাকে, তাহলে আগে বন অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরামর্শ দেওয়া যাবে। তিন. ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্ট নিয়ে কাজ করবে বন অধিদফতর। চার. ডিরেক্টরস গিল্ড থেকে বৈঠকের বিষয়ে একটি লিখিত চিঠি চেয়েছে বন অধিদফতর। চিঠি হাতে পাওয়া মাত্রই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে তারা।
বন অধিদফতরের সঙ্গে ডিরেক্টরস গিল্ডের এই বৈঠক চলে প্রায় দেড় ঘন্টা। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বন অঅধিদফতরের পরিচালক, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট প্রধান এবং তার টিম, জনসংযোগ কর্মকর্তা আর ডিরেক্টরস গিল্ডের প্রতিনিধিবৃন্দ। তবে ডিরেক্টরস গিল্ড থেকে এর আগে যে চিঠি বন অধিদফতরের দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।
আরআর