বিনোদন প্রতিবেদক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
নাটকের শুটিং চলাকালীন অভিনয়শিল্পীদের মেকআপ কিংবা বিরতির মুহূর্তগুলো গোপনে ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলছে। অনুমতি ছাড়াই শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের বিষয়টি সামনে এনেছেন অভিনেত্রী রেশমা আহমেদ। এ কর্মকাণ্ডের জন্য কলাকুশলীদের দায়ী করে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এ চরিত্রাভিনেত্রী।
সোমবার (০২ নভেম্বর) এক পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘শুটিং সেটে অভিনয় শিল্পীরা সাবধান। আমরা ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের বিশেষ করে মা-বাবাদের ১০/১২টা সিকোয়েন্স থাকে। প্রতি সিকোয়েন্সের মাঝখানে হয়তো দশ মিনিট ব্রেক দেওয়া হয়। তখন চা খাই, গল্প করি, একটু ফান করার চেষ্টা করি। সুখ-দুঃখ ও সংসার-সন্তান নিয়ে কথা বলি। এই দশ মিনিটের মধ্যেই আমরা পরবর্তী সিকোয়েন্সের জন্য এনার্জি নিয়ে তৈরি হই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, শুটিং সেটের লাইট ও ক্যামেরা সহকারী, মেকআপ সহকারী কিংবা কোনো গেস্ট বা ভেতরের লোকজনই এই ব্যক্তিগত বিশ্রামের সময়গুলোর গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেগুলো দিয়ে রিলস বানিয়ে নিজের আইডি থেকে আপলোড করে টাকা ইনকাম করছেন।’
হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি এটা নিয়ে আমাদের অনেক অভিনেতা পোস্ট ও অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এর কোনো সমাধান হচ্ছে না। চোর চুরি করে যাচ্ছে। তাই নিজেরাই সচেতন হই।’
এ বিষয়ে ঢাকা মেইল অভিনেত্রী রেশমা জানান, পরিচালকরা মেকআপম্যান ও লাইটম্যানদের আগেই সতর্ক করে বলে দেন ‘কেউ মোবাইল বের করবে না এবং ভিডিও করতে দেখলে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে’। তবুও তাঁরা গোপনে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে।
অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা শুটিং সেটের ভিডিও প্রকাশ করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে রেশমা বলেন, “আইনি পদক্ষেপ নিতে পারি না। কারণ দিনশেষে আমরা পরিবার। এখানে চাকরি চলে গেলে আর পাঁচটা হাউজে তাঁকে চাকরি দেবে না। তাহলে ওর পরিবারটার কী হবে? এ ঘটনায় প্রযোজনা সংস্থা ও ক্যামেরাহাউজের কর্ণধার বলছেন, ‘আপনি বললে ওঁকে বরখাস্ত করব’। আমি বললাম না, গরিবের সন্তান কাজ করে খাক। তবে সাবধান করে দেন। আগামীতে যেন এগুলা না করে। মিডিয়ার সবাই আমদের পরিবার। একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হবে। ওরা যেন একটু সংশোধন হয়ে যায়।”
ইএইচ/