বিনোদন ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ এএম
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ৬১তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে জন্ম তার। নব্বইয়ের দশকে বলিউডে পা রাখার পর তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে পেয়েছেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আর সাফল্য।
টেলিভিশন পর্দার সাধারণ এক তরুণ থেকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের মাধ্যমে ভক্তদের শিখিয়েছেন ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ। তার আইকনিক পোজ খোলা বাহু, মায়ায় ভরা চোখের চাউনি, আর গালে টোল পড়া অমলিন হাসি দিয়ে ঘায়েল করেছেন কোটি তরুণীকে। আজকের প্রতিবেদনে থাকছে কীভাবে তিনি রোমান্স কিং হয়ে উঠলেন?

টেলিভিশনের জনপ্রিয় নাটক ‘ফৌজি’ , ‘সার্কাস’-এর হাত ধরে অভিনয়ের দুনিয়ায় পা রাখেন শাহরুখ। তার মুখের অভিব্যক্তি আর ক্যামেরার সামনে সহজাত ক্যারিশমা পরিচালকদের বুঝিয়ে দিয়েছিল, তিনি সাধারণ ভিড়ের অংশ হতে আসেননি। টেলিভিশন তারকার খ্যাতি নিয়ে নাম লেখান সিনেমায়। প্রথম ছবি ‘বাজিগর’-এ খল অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেন। খল চরিত্র তাঁকে রাতারাতি তারকা খ্যাতি এনে দিয়েছিল। এ সিনেমার হাত ধরে প্রচলিত নায়কদের ছাপিয়ে যান তিনি।
এরপর ১৯৯৫ সালে মুক্তি পেল আধুনিক ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস বদলে দেওয়া ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ (ডিডিএলজে)। সিমরানের ভালোবাসার জন্য লড়াই করা দূরন্ত সাহসী ‘রাজ’ কেবল একটি চরিত্র হয়ে থাকেনি, বরং পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে ভালোবাসার এক নতুন আদর্শে পরিণত হলো। এরপর থেকে শাহরুখ ভালোবাসাকে প্রতিবার এক নতুন রঙে রাঙিয়েছেন। ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ ও ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর চঞ্চল ও ব্যাকুল ‘রাহুল’ থেকে শুরু করে ‘দেবদাস’-এর বেদনা—সবখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ভাঙা হৃদয়ও রূপালি পর্দায় আকর্ষনীয় হয়ে উঠতে পারে। ‘রব নে বানা দিয়া জোড়ি’ সিনেমায় একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ ভালোবাসার গল্পকে অমর করে তুলেছিলেন।

তবে রোমান্সের রাজা হলেও শাহরুখ নিজেকে কখনও একটি ছাঁচে বন্দি রাখেননি। । ‘স্বদেশ’-এ তিনি ছিলেন শেকড় সন্ধানী এক সফল মানুষ, ‘চক দে! ইন্ডিয়া’-তে আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারে লড়াই করা হকি কোচ, আর ‘মাই নেম ইজ খান’-এ সমাজের অন্যায় ও অন্ধত্বের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো এক সরল মানুষ। এমনকি সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ‘পাঠান’ বা ‘জাওয়ান’-এর মতো অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রে তার অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে দ্যুতি ছড়িয়েছে।
ইএইচ/