বিনোদন ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ইউরোপ ও কানাডার লোভনীয় কর ব্যবস্থা নীতের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে মার্কিন মুল্লুক ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছিল হলিউডের বড় বড় প্রোডাকশন। এর জেরে ধস নেমেছে আমেরিকার বিনোদন শিল্পে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মার্কিনী।
গেল সেপ্টেম্বরে ফিল্ম ও টেলিভিশন শিল্পে ধস এবং নিজে দেশের কাজ বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে সরকারি প্রণোদনা চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি কংগ্রেসকে শিগগিরই আইন পাসের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার প্রেসিডেন্টের ডাকে সাড়া দিয়ে বিল পাসে একাট্টা হচ্ছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি নাথানিয়েল মোরান বলেন, ‘আমেরিকার নিজস্ব গল্প বলার ঐতিহ্য কোনোভাবে ভিনদেশের সংস্কৃতিতে বিকৃত হতে দেওয়া যাবে না। ছোটবেলা থেকে আমি আমেরিকার গল্পগুলো দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমি চাই না পরবর্তী প্রজন্ম অন্য দেশের বিকৃত কোনো গল্প দেখুক।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নকক্ষে উত্থাপিত মোশন পিকচার, টেলিভিশন, অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট রিভিটলাইজেশন অ্যাক্ট নামক বিলের মাধ্যমে মার্কিন ভূখণ্ডে সিনেমা ও টিভি শো নির্মাণে কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদগুলোতে শুটিং স্পট গড়ে তুললে স্টুডিওগুলো পাবে অতিরিক্ত আর্থিক প্রণোদনা। মোরানের ভাষ্য, ‘আমেরিকার গল্প কেবল ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা নিউইয়র্কের চার দেওয়ালে বন্দি থাকতে পারে না। এর পরিধি ছড়িয়ে পড়তে হবে গোটা দেশে।’
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ট্রাম্পের কট্টর বিরোধী ডেমোক্র্যাট সেনেটর অ্যাডাম শিফ এবং ট্রাম্পঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান সেনেটর টিম স্কট যৌথভাবে এই বিলের পাসের ব্যাপরে কাজ করছেন। হলিউডের অস্তিত্ব রক্ষায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক শিবির এখন এক মঞ্চে। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি টম সুওজি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তাঁর নিজ রাজ্যেও দক্ষ কর্মীদের ভালো বেতনের চাকরিগুলো বিদেশে চলে যাচ্ছে।
তাঁর ভাষ্য, ‘চাকরিগুলো দেশে ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।’
সমালোচকদের একটি পক্ষ প্রশ্ন তুলেছে, দীর্ঘকাল ধরে উদারপন্থী রাজনীতির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত হলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে কেন বিশেষ কর ছাড় দেওয়া হবে? সমালোচনার জবাবে নাথানিয়েল মোরান বলেন, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে এখন প্রচুর দেশপ্রেমিক, রক্ষণশীল ও মূল্যবোধভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে, যা প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসে নতুন আইন পাস করা বেশ কঠিন হলেও, আসন্ন ল্যাম্ব-ডাক সেশনে বিল পাসের ব্যাপারে আশাবাদী আইনপ্রণেতারা।
ইএইচ/