বিনোদন প্রতিবেদক
০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর বয়সে মার গেছেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। পর্দায় তাঁর রাগী দৃষ্টি হলের দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনার ঝড় তুলত। তারকাখ্যাতি পাওয়ার আগে চরম আর্থিক সংকটে ভরা ছিল তার জীবন। শৈশবে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবনের পথচলা শুরু হয়েছিল।
১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন নানা পাটেকর (প্রকৃত নাম বিশ্বনাথ পাটেকর)। ছোটবেলায় তাঁর পরিবার সচ্ছল হলেও, বাবার এক ব্যবসায়িক অংশীদার প্রতারণায় ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়। চরম অর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েন তার পরিবার। ফলে ছোটবেলাতে তাঁকে উপার্জনের পথ বেছে নিতে হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর নিজেই তাঁর সংগ্রামী দিনগুলোর কথা শেয়ার করেছিলেন। পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে তিনি মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টি এলাকায় পোস্টার আঁকার কাজ নেন। সেই সময় পোস্টার আঁকার কাজের বিনিময়ে মাসিক বেতন পেতেন মাত্র ৩৫ টাকা! শুধু তাই নয়, কাজ করার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে যাতায়াত করতেন। পরিবারের অভাব মেটাতে সেই সময় রাস্তার জেব্রা ক্রসিংয়ের সাদা দাগ টানার মতো ছোটখাটো কাজও করেছেন। তবে চরম কষ্টের দিনগুলোতেও শিল্পের প্রতি টান হারাননি। তাঁর বাবা মারা যাওয়ার আগে নাটক ও থিয়েটারের প্রতি যে আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছিলেন, সেটাই পরবর্তীতে অভিনয়ের ভিত গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
দারিদ্র্যতার সিঁড়ি বেয়ে একসময় পেশাদার অভিনয় দুনিয়ায় পা রাখেন নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালে মুজফফর আলির ‘গমন’ ছবির হাত ধরে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। শুরুর দিকে মারাঠি সিনেমা এবং ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর সাফল্য আসে ১৯৮৬ সালের ‘অঙ্কুশ’ ছবির হাত ধরে। ১৯৮৮ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ‘সালাম বম্বে’ তার ক্যারিয়ার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘পারিন্দা’, ‘প্রহার’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’, ‘ওয়েলকাম’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। খলনায়ক থেকে শুরু করে কমেডি— সবক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। এছাড়া চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ঘরে তুলেছেন। শিল্প সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত করা হয়।