বিনোদন ডেস্ক
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ এএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা টলিউড নায়িকা কোয়েল মল্লিকের দলবদল। প্রায় পাঁচ মাস আগে তৃণমুল কংগ্রেসের টিকিট নিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করলে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন কোয়েল। গুঞ্জন ছিল জোড়া ফুলের দল ছেড়ে পদ্মফুলের দলে যোগ দেবেন তিনি। অবশেষে গুঞ্জনই সত্য হয়েছে। গতকাল সোমবার বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল।
তার দলবদল কে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল হয়ে উঠেছে। তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘পর্দায় কোয়েল নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবের রাজনীতিতে তিনি আসলে একজন ভিলেন। সকালবেলা নায়িকা, বিকালবেলা ভিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারীর মতো লোকেরাও আগে তৃণমূলে ছিলেন। তাঁরা সবাই খুব ভালো অভিনয় করতে পারেন।’
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষও কোয়েলের নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ভোটের সময় সুযোগ বুঝে তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হওয়া এবং পরবর্তীতে বিজেপিতে চলে যাওয়া কেবল পদ ও ক্ষমতার লোভ ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলার মানুষ এবং কোয়েলের ভক্তরা রূপ বদলকে কখনোই ভালো ভাবে মেনে নেবে না।
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, ‘যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন সাংসদ হওয়ার জন্য তৃণমূলকে খুব ভালো লাগত। কিন্তু এখন ক্ষমতার হিসাব পাল্টে যাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বিজেপিতে যেতে হয়েছে।’
সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর উদারতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমাজে বিশিষ্ট মানুষদের রাজনীতিতে এনে জননেতা করার সদিচ্ছা দেখিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আজ কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সেই সৌজন্য সবার জন্য মানানসই নয়।’
এর আগে বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়ার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রোলের মুখে পড়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। নেটিজেনরা তাঁকে দলবদলু বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেন।
যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোয়েল মল্লিক, বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইএইচ/