বিনোদন ডেস্ক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
ভারতীয় চলচ্চিত্রে লোকসংগীতের সুর আর শাস্ত্রীয় সংগীতের জাদুকরী মেলবন্ধন খুব কম শিল্পীই ঘটাতে পেরেছেন। যেটা খুব সহজে উত্তরে গিয়েছিলেন ত্রিপুরার রাজপরিবারে জন্ম নেওয়া সুরকার ও গায়ক শচীন দেববর্মন। মৃত্যুর অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও শ্রোতার হৃদয়ে আজও অমর হয়ে আছে তার গান।
১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ত্রিপুরার আগরতলায় রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শচীন দেববর্মন। তাঁর বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মন এবং মা নিরুপমা দেবী। ছোটবেলা থেকে শাস্ত্রীয় সংগীত ও লোকসংগীতের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। উস্তাদ বাদল খান, বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় এবং মমতাজ আলী খানের মতো প্রথিতযশা ওস্তাদদের কাছে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন। ত্রিপুরার টিকরজলা এলাকায় বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের লোকসংগীত তাঁকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে, যা পরবর্তীকালে তাঁর সুরের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।
ব্যক্তিগত জীবনে শচীন দেববর্মন সংগীত সুরকার মীরা দেববর্মণের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একমাত্র পুত্র রাহুল দেববর্মন, যিনি পরবর্তীকালে ‘আর ডি বার্মান’ নামে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। শচীন কর্তা ও তাঁর স্ত্রী মীরা দেববর্মন একসঙ্গে বহু জনপ্রিয় গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন শচীন দেববর্মন। ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘পেয়াসা’, ‘কাগজ কে ফুল’, ‘গাইড’, ‘অভিমান’, ‘আরাধনা’ এবং ‘শোলে’-এর মতো আইকনিক চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন। লোকসংগীতের সাথে শাস্ত্রীয় সংগীত এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি হিন্দি ও বাংলা গানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমার, মোহাম্মদ রফি, লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের কণ্ঠে তাঁর সুর করা গানগুলো চিরকালীন ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে।
সংগীত জগতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। ১৯৫৮ সালে তিনি সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত করে।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনের ইতি টেনে ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মারা যান প্রবাদপ্রতিম সুরকার।
ইএইচ/