Dhaka Mail Logo

বিনোদন

‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ নিষিদ্ধের দাবি, যা বলছে বিমান কর্তৃপক্ষ

বিনোদন ডেস্ক

০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ এএম

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে তানভীর মোকাম্মেল নির্মিত ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমা দুইটি বাংলাদেশ বিমানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর দায় চাপিয়ে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয় অজ্ঞাত কারণে প্রদর্শন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ জানিয়েছে, বিমানে সিনেমা নিষিদ্ধের বিষয়টি বিভ্রান্তিকর।  

বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ  ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছে, প্রতি তিন মাস পরপর সিনেমার তালিকায় নতুন ছবি যোগ হয় এবং পুরোনো ছবিগুলো বাদ পড়ে যায়। এই নিয়মিত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’র সঙ্গে আরও কিছু সিনেমা বর্তমানে প্রদর্শিত হচ্ছে না।

বিমানের একটি সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির প্রতি অনুগত নির্মাতাদের অনেকের সিনেমা বিভিন্ন তদবিরের কারণে তিন মাস পর বাদ না দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিমানে প্রদর্শিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সব সিনেমার ক্ষেত্রে তিন মাস পরপর নতুন সিনেমা প্রদর্শনের নিয়ম পূনরায় চালু করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তানভীর মোকাম্মেলের সিনেমাটি প্রদর্শন তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তানভীর পরিচালিত ‘লালন’ সিনেমাটি এখনও যাত্রীদের জন্য রাখা হয়েছে। 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ আরও জানিয়েছে, কনটেন্ট সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং দর্শকের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়মিত কনটেন্ট পরিবর্তন করা হয়। ফলে দীর্ঘকাল কোনো নির্দিষ্ট সিনেমা প্রদর্শন করা সম্ভব হয় না।

জানা গেছে, নিয়মের তোয়াক্কা না করে টানা ৯ বছর (২০১৬-২৫) বাংলাদেশ বিমানে ‘লালসালু’ সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে। অন্যদিকে ‘চিত্রা নদীর পারে’ ছবিটি চলেছে ৮ বছর (২০১৬-২৪)। 

এ বিষয়ে তানভীর মোকাম্মেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে ‘দ্য ডিসেন্ট’ ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ফটোকার্ড শেয়ার করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, “সত্যি বলতে, ওই ফটোকার্ডটা দেখা মাত্রই আমার পাশের বন্ধুকে বলে বলেছিলাম ‘আরেকটা অপপ্রচার শুরু হয়েছে’। প্রথম কথা হলো এয়ারলাইনে ছবি দেখাবে, আবার তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নামাবে। এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। যে ছবি তারা তাদের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা অনুযায়ী উঠাতে পারে আবার নামাতেও পারে, সেটা নিষিদ্ধ করতে হবে কেন? কিন্তু কালকে সারাদিন দেখবেন ফিল্মমেকারের ছড়ানো নিষিদ্ধ কার্ডটা প্রচার হয়েছে। পিপলস রিপাবলিক অব প্রোপাগান্ডু। এরকম অপপ্রচার আসতেই থাকবে। সরকারের ভাই-বোনেরা, আপনি কি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত?”

ইএইচ/