বিনোদন ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী বিশিষ্ট গবেষক, কবি এবং উপস্থাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় রেখে গেছেন অনন্য স্বাক্ষর। তাঁর সৃষ্টিশীল গান, কবিতা ও গবেষণাকর্ম আজও সমৃদ্ধ করে চলেছে সংস্কৃতিকে।
১৯৩৬ সালের ১৩ মার্চ তৎকালীন পাবনা জেলা এবং বর্তমানে সিরাজগঞ্জের নাগরৌহা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল। তাঁর শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত মেধাদীপ্ত। ১৯৫২ সালে পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রি, ১৯৫৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন তিনি। এরপর ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৫৭ সালে তাঁর অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এক বছর পিছিয়ে যান।
শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনের শুরুতে তাকে কিছুটা অবহেলার মুখোমুখি হতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেও নিজের বিভাগে সে সময় চাকরি জোটেনি। পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। অধ্যাপক পদমর্যাদায় উন্নীত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ পান তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশ স্বাধীনের পর স্বাধীনতা যুদ্ধর বিরোধিতার অভিযোগে কারাবাস করতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও দ্রুতই সেই ভুল ভেঙেছিল তাঁর।
ছাত্রাবস্থা থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দারুণ সুনাম অর্জন করেছেন আবু হেনা। মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহর সহযোগিতায় ১৯৫৪ সালে ‘পূর্ব বাংলার কবিতা’ নামে একটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশ করে তরুণ বয়সে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আবু বকর খানের গাওয়া বিখ্যাত গান ‘সেই চম্পা নদীর তীরে’-এর গীতিকারও তিনি।
১৯৬৬ সালে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে উচ্চতর গবেষণার জন্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখান থেকে ‘The Bengali Press and Literary Writing 1818-1831’ শীর্ষক গবেষণাপত্র রচনা করে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনেও তিনি ছিলেন সফল; ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আপন যৌবন বৈরী’ (১৯৭৪), ‘যেহেতু জন্মান্ধ’ (১৯৮৪) এবং ‘আক্রান্ত গজল’ (১৯৮৮)। এ ছাড়াও ‘তুমি যে আমার কবিতা’, ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে’, ‘নদীর মাঝি বলে’, ‘অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে সেদিন বর্ণমালা’, ‘এই বাংলার হিজল তমালে’র মতো অজস্র অনন্য সৃষ্টি তাঁকে অমর করে রেখেছে।
১৯৮৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বরেণ্য ব্যক্তিত্ব মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৩ বছর।
ইএইচ/