বিনোদন প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
শিগগিরই প্রচারে আসছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বকুলপুরে’র তৃতীয় সিজন। তবে থাকছেন না সিরিয়ালটির গত দুই সিজনের পরিচালক কায়সার আহমেদ। দেখা যাবে না পুরনো শিল্পীদের অনেককে। সিজন ৩ -এর পরিচালকের দায়িত্বে আছেন হাসান রেজাউল।
দুটি সিজন জনপ্রিয়তা পাওয়া স্বত্বেও পরিচালক বদলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে কায়সার আহমেদ জানান তিনিও বুঝতে পারছেন না। ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘নিজেও কারণ বুঝতে পারছি না। তবে এটা আমার জন্য বেদনাদায়ক। ইমেজেরও ব্যাপার। এরচেয়ে বেশিকিছু বলার নেই।’
সিরিয়ালটির আগের দুটি মৌসুম প্রচারিত হয় বেসরকারি টেলিভিশন দীপ্ত টিভিতে। একই চ্যানেলে দেখা যাবে তৃতীয় সিজন। চ্যানেল কায়সার আহমেদকে জানিয়েছে স্বত্বাধিকারবলে নতুন পরিচালক নির্ধারণ করেছে তারা। এরকম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সিজন ওয়ান ও টু বানিয়েছি। ১২০০ পর্ব নির্মাণ করেছি। জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আমি দীপ্ত টিভি ও সিরিয়ালটির নির্বাহী প্রযোজক আব্দুল আলীমের কাছে জানতে চাইলাম, আমার অপরাধ কী। চ্যানেল থেকে বলেছে যে এটা আমাদের রাইট। আমরা যেকোনো সময় পরিচালক বদলাতে পারি।’
এদিকে কায়সার আহমেদের ক্ষোভ বকুলপুরের নাট্যকার আহমেদ শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধেও। ক্ষোভ ঝেড়ে বললেন, ‘বকুলপুরের লেখক আহমেদ শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আমি কাজ করছি প্রায় আট বছর। তাকে ছয়টা সিরিয়াল লিখিয়েছি। ২৫০০-৩০০০ পর্বের মতো হবে। বকুলপুরের তৃতীয় সিজন নিয়ে আমার সঙ্গে দীপ্তর আলোচনা হচ্ছিল। তারা আমার কাছে সিনোপসিস চায়। আমি রাইটারকে বললে তিনি সিনোপসিস পাঠান। কিন্তু আমার মনঃপূত হয়নি। কিছু সংশোধনী দিলে তিনি আবার পাঠান। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপে ওপেন হচ্ছিল না। এরপর যোগাযোগ করলে রাইটার আর ফোন ধরেননি। অন্যদের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হইনি। পরে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি তারা সিরিয়ালটির শুটিং লোকেশন বুকিং দিতে মানিকগঞ্জ গেছেন। বকুলপরের শুটিং শুনে বাড়ির মালিক আমাকে খুঁজেছেন। আমি নেই শুনে বলেছেন, তাকে ছাড়া এখানে শুটিং করতে দেব না।’
এদিকে বকুলপুরের তৃতীয় মৌসুমে থাকছেন না পুরনো শিল্পীদের অনেকে। কায়সার আহমেদ জানালেন, পরিচালক বদলের বিষয়টি তাদের কাছে অনৈতিক লেগেছে বিধায় সরে দাঁড়িয়েছেন। বলেন, ‘দুই-চারজন পুরনো শিল্পী অভিনয় করছেন। আমি নেই বলে ৩০-৩৫ জনের মতো শিল্পী কাজটি করছে না। এরমধ্যে আছেন আখম হাসান, ফারজানা ছবি, স্বর্ণলতা, নাবিলা ইসলাম, শ্যামল মাওলা প্রমুখ। কেননা তাদের মনে হয়েছে বিষয়টি অনৈতিক।’
এদিকে ‘বকুলপুরে’র প্রযোজক আব্দুল আলিমের সঙ্গে গত সিজনের লেনদেন সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ডিরেক্টর গিল্ডে অভিযোগ দেন কায়সার আহমেদ। প্রযোজকের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক বকেয়ার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ‘প্রযোজকের সঙ্গে আমার একটি লেনদেন ছিল। বকুলপুর সংক্রান্ত। সেটা ডিরেক্টরস গিল্ডে বিচারাধীন। এই নাটকের পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে আমার।’
তবে পরিচালক বদলের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না উল্লেখ করে কায়সার বলেন, ‘আমি মিডিয়ায় আছি চার দশক। ১০০-১৫০ সিরিয়াল, ৪০০-৫০০ সিঙ্গেল নাটক বানিয়েছি। কারও সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। ভবিষ্যতেও জড়াতে চাই না।’
এরপর কথা হয় ‘বকুলপুরে’র প্রযোজক আব্দুল আলীমের সঙ্গে। কায়সার আহমেদকে বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কায়সার ভাই বকুলপুরের দুটি সিজন করেছেন। দুটি-ই সফল। এরপর একই চ্যানেলের রূপনগর নামের আরেকটি সিরিয়াল করছেন। কিন্তু সেটি সফল হয়নি। এতে দর্শকের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। সে প্রভাব যেন বকুলপুরে না পড়ে সে কারণে চ্যানেল তাকে পরিচালক হিসেবে রাখেনি। তবে প্রয়োজন হলে পরের সিজনে তাকে যুক্ত করা হতে পারে। অতএব বলা যায়, কায়সার ভাইকে বাদ দেওয়া হয়নি। গল্পের স্বার্থে, জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে পরিচালক বদল করা হয়েছে।’
এদিকে কায়সার আহমেদ অভিযোগ তুলেছেন লেখকের সঙ্গে যোগসাজসের মাধ্যমে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রযোজক জানান, ‘তাকে পাশ কাটিয়ে চ্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বকুলপুর ৩ নিয়ে এগোতে চেয়েছিলেন পরিচালক। বলেন, ‘ওনাকে আমি দীপ্ত টিভিতে নিয়ে গেছি। আমার মাধ্যমে কাজটি পেয়েছেন তিনি। কাজের সুবাদে চ্যানেলের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। কিছু লোকের বুদ্ধিতে উনি আমাকে পাশ কাটিয়ে বকুলপুরের থার্ড সিজন বন্ধ করে নতুন সিরিয়াল নেন। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। উনি আমাকে একটা ফোন দিয়ে জানতেও চাননি কাজটি প্রযোজনা করব কিনা।’
এরপর লেখক প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে লেখকের (আহমেদ শাহবুদ্দিন) কথা বলছেন। ওনার সঙ্গে কায়সার আহমেদ দীর্ঘদিন কাজ করছেন। আমার অগোচরে তাকে দিয়ে একাধিকবার বকুলপুর ৩-এর সিনোপসিস লিখিয়ে চ্যানেলে জমা দিয়েছেন। পরে আমি অন্য একটি কাজের প্রপোজাল নিয়ে গেলে তারা আমাকে বকুলপুর ৩ করতে বলে। জানতে চায় পরিচালক হিসেবে কাকে নিতে চাই। আমি কায়সার ভাইয়ের নাম বলি এবং ওনার (কায়সার আহমেদ) সঙ্গে কথাও বলি। কিন্তু চ্যানেল পরপর তাকে দিয়ে সিরিয়ালটি করাতে অসম্মতি জানায়। এরপর পরিচালক বদলায়। এটা তারা পারে। কেননা চুক্তিপত্র অনুযায়ী পরিচালক বদলানোর অধিকার চ্যানেলের আছে। অতএব এখানে আমার কিংবা লেখকের কোনো দায় নেই।’
এদিকে প্রযোজকের বিরুদ্ধে লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ এনেছেন কায়সার আহমেদ। সেটি অস্বীকার করেন আব্দুল আলীম। বলেন, ‘বকুলপুর শেষ হয়েছে ২০২৪-এ। উনি অভিযোগ করেছেন ২০২৬ সালে। টাকা পেলে দুই বছর পর কেন অভিযোগ করলেন। আমার কাছেও তো সরাসরি কোনোদিন চাইলেন না। যাইহোক ওনার অভিযগের ভিত্ততে ডিরেক্টর গিল্ডের সঙ্গে আমি দীর্ঘ সময় নিয়ে একাধিকবার বসেছি। ৭-৮ ঘণ্টা করে।’ গিল্ডকে কায়সার আহমেদের সহকর্মী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার পক্ষে কেউ ছিল না। আমার পক্ষে কোনো বিচারক তারা নিয়োগ দিতে দেয়নি। তবে আমার কাছে যেহেতু ডকুমেন্ট ছিল তাই বসি। এরপর কায়সার আহমেদ ও তার ম্যানেজারের দিক থেকেই বিভিন্ন হিসাব বেরিয়ে আসে যেগুলোতে দেখা যায় আমার টাকা পাই।’
তার কথায়, ‘বকুলপুর ২ চলমান থাকার কথা ছিল। অভ্যুত্থান না হলে কাজটি আরও বড় হতো। ওই জায়গা থেকে আমি তাদের বিভিন্ন সময় কাজটির জন্য অর্থ দিয়েছি। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়ে গেলে সে বিষয়ে আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। এখন তার হিসেবের ওপর তদন্ত করে বেরিয়েছে আমি উল্টো টাকা পাই। যদিও এরপর তারা দাবি করেছিলেন, আমার মানি রিসিটে ত্রুটি বিচ্যুতি আছে। তবে প্রমাণ করতে পারেনি। গেল মাসের ১১ তারিখ রাত সাড়ে বারোটার দিকে মিটিং স্থগিত করা হয় এবং জানানো হয় পরবর্তী তারিখে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এরপর আর বসা হয়নি। আমি যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছে চলতি মাসের ১৯ তারিখ বসবে।’ এ সময় ডিরেক্টর গিল্ডে বিরুদ্ধে কায়সয়ার আহমেদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ আনেন প্রযোজক। তবে প্রযোজকের দাবি অস্বীকার করেন কায়সার আহমেদ। লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে বলেন, ‘আমি যে প্রযোজক আব্দুল আলীমের কাছে টাকা পাই তা সবাই জানে।’
এদিকে ‘বকুলপুরে’র তৃতীয় সিজনে থাকছেন না পুরনো শিল্পীদের অনেকেই। বিষয়টি তুললে প্রযোজকের দাবি কায়সার আহমেদ তাদের প্রভাবিত কররেছেন। সেকারণে যুক্ত হননি।
আরআর