বিনোদন ডেস্ক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আজ ৯ সেপ্টেম্বর বিশিষ্ট ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী ইলা মজুমদারের জন্মদিন। শহীদ সুরকার আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ ছিলেন তার স্নেহধন্যা। বিশেষ দিনটিতে বরেণ্য শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। যেখানে ইলা মজুমদারের মাতৃরূপের পাশাপাশি উঠেছে এসেছে প্রখর ব্যক্তিত্ব।
আজ বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুকে ইলা মজুমাদের সঙ্গে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন আলতাফকন্যা। সঙ্গে লিখেছেন, ‘ইলা মজুমদার। ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের স্ত্রী। পার্থ মজুমদার, মিতু দিদি আর বাপ্পা মজুমদারের মা। আমার আর টিপুর ইলা মাসিমা।’
শাওন মাহমুদ ও তার স্বামী সংগীতশিল্পী সাইদ হাসান টিপু ইলা মজুমদারের মায়ার আঁচলে বাধা ছিলেন। ইলা মজুমদারও মায়ের মতো খোঁজ রাখতেন। উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘মাসিমার প্রতি টিপুর অতল ভালোবাসার সাগর বেয়ে কখন যেন আমিও পৌঁছে গিয়েছিলাম তাঁর হৃদয়ের কাছে। দুপুরবেলা সেলফোনে কল দিতেন আমায়। টিপুকে খাইয়েছো? হুম। তুমি খেয়েছো? হুম। আসবে একটুখানির জন্য? আসছি মাসিমা বলে দৌড়ে চলে যেতাম তিনটা বাসা পর তাঁর কাছে। কলিংবেল বাজালে বউদি দরজা খুলে দিতেন। মাসিমা, মাসিমা আমি এসেছি। ঘর থেকে ডাক দিতেন, শাওন এসো।’

স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বলেছেন, ‘বই পড়তে পড়তে শুভ্র বিছানার এক পাশ দেখিয়ে তাঁর পাশে শুতে ইশারা করতেন। আমিও দেরি করতাম না। বালিশে মাথা রাখতেই বলতেন। ঘুমাবে? ঘুমাও। উঠে চা খাব একসাথে। সাদা সাদা শান্তি আরামে চোখ আপনাতেই বন্ধ হয়ে যেত। হঠাৎ চোখ খুললে দেখতাম, বই পাশে রেখে বসে বসে আমাকে দেখছেন তিনি। আদর চোখে। মন দিয়ে। মাসিমা কী খুঁজতেন আমার মাঝে বুঝতাম না তখন!’
শাওন মাহমুদের ধারণা একাত্তরে হারিয়ে যাওয়া কন্যাকে তার মাঝে খুঁজতেন পণ্ডিত বারীণ মজুমদারের স্ত্রী। তার কথায়, ‘আমাকে আর টিপুকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন সহসা। বুকে পাথর জমা কোনো এক অভিমানের পাহাড় নিয়ে। একাত্তরের মুক্তিযু্দ্ধে হারিয়ে যাওয়া একমাত্র কন্যা মিতুকে হয়তো খুঁজে ফিরতেন আমার মাঝে। যাঁকে মাসিমার মাথার কাছে রাখা একটি ছবি থেকে জেনেছিলাম। একটু করে তাঁর কথা শুনেছিলাম বউদির কাছ থেকে।’
প্রখর ব্যক্তিত্ববান ছিলেন ইলা মজুমদার। সংকটকালে ভেঙে না পড়ে পরিবারের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। হয়েছিলেন জয়ী। শাওন মাহমুদের লেখায়ও পাওয়া গেছে আভাস। জানিয়েছেন হতাশা ছুঁতে পারেনি তাকে। লিখেছেন, ‘মাসিমাকে কখনও কোনো হতাশার কথা বলতে শুনিনি। যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া কন্যার হাহাকার করতে শুনিনি। তিনি চলে যাওয়ার এতো বছর পরও কেন যেন নিজেকে অপরাধী মনে হয়। প্রায় মনে হয় কেন আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরে কখনও বলিনি, মাগো আমি তোমার হারিয়ে যাওয়া মেয়ে গো মা।’

সবশেষে শহীদকন্যা লিখেছেন, ‘আজ মাসিমার জন্মদিনে শুধুমাত্র সেই অপরাধবোধ নিয়ে লিখতে বসেছি। জীবন বড় অদ্ভুত। সময়ে কত কথা বলা হয় না প্রিয় জীবিত মানুষকে। অথচ প্রিয় মৃত মানুষকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে ইচ্ছে করে। হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। হায় আমার না বলা কত শত কথা হারিয়ে যায়, অতল ভালোবাসার সাগরে।’
মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনরা ইলা মজুমদারের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। কেউ কেউ শিক্ষক ইলা মজুমদারকে নিয়ে করেছেন স্মৃতিচারণ।
আরআর