বিনোদন ডেস্ক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
সালমান শাহ ও শাবনূর জুটি ঢালিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রোমান্টিক জুটি হিসেবে স্বীকৃত। জুটি বেঁধে দর্শকেদের উপহার দিয়েছেন চৌদ্দটি সিনেমা। পর্দায় তাঁদের রসায়ন মুগ্ধ করেছে সিনেমাপ্রেমীদের। কাজের সুবাদে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠলেও একপর্যায়ে তা সালমানের সংসারজীবনে প্রভাব ফেলে। জুটি বেঁধে অভিনয় করার সময় তাঁদের প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। গুঞ্জনের জেরে সালমানের সঙ্গে সামিরা হকের মনমালিন্য সৃষ্টি হয়।
১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সালমানের মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় এফডিসির একটি ডাবিং কক্ষে সালমান ও শাবনূরকে খুনসুটি করতে দেখে রাগ করে বেরিয়ে গিয়েছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরা।
ঘটনার দিনে সন্ধ্যায় ‘প্রেমপিয়াসী’ ছবির ডাবিং করতে এফডিসিতে গিয়েছিলেন সালমান শাহ। সেখানে ডাবিংয়ের জন্য আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন এই ছবির নায়িকা শাবনূর। এফডিসিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর সালমান তাঁর বাবাকে ফোন করে অনুরোধ জানান স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে আসার জন্য। ছেলের ফোন পেয়ে সালমানের বাবা দ্রুত সামিরাকে নিয়ে এফডিসিতে এসে পৌঁছান। শ্বশুরের সঙ্গে সাউন্ড কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে সামিরা দেখতে পান, ডাবিং রুমে সালমান ও শাবনূর খুনসুটিতে ব্যস্ত।
সে সময় প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সালমানকে শাবনূরের সঙ্গে এমন হাসিখুশিতে মেতে থাকতে দেখে প্রচণ্ড রেগে যান সামিরা। সালমানের বাবা সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরপরই সামিরা দ্রুত ক্ষোভে ও অভিমানে নিচে নেমে গাড়িতে ওঠেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে একই গাড়িতে গিয়ে ওঠেন চিত্রপরিচালক বাদল খন্দকার ও সালমান শাহ। তবে গাড়িতে বসে সালমানের সঙ্গে একটি কথাও বলেননি সামিরা। পরিচালক বাদল খন্দকার চেষ্টা করতে থাকেন তাঁকে শান্ত করার। গাড়ি এফডিসির প্রধান গেট পর্যন্ত পৌঁছালে সালমান ও বাদল খন্দকার দুজনে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। এরপর সালমান ডাবিং রুমে ফিরে গেলেও সেদিনের মতো আর কাজ সম্পন্ন হয়নি।
পরে রাত ১১টার দিকে নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বি-১১ নম্বর ফ্ল্যাটে সালমানকে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান বাদল খন্দকার। বাসায় ফেরার পর সে রাতের ঘটনা নিয়ে তৎকালীন সংবাদমাধ্যমে নানা মুখরোচক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল অনুমাননির্ভর এবং কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর সরাসরি বয়ানে তখন প্রমাণিত হয়নি।
পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র পরিচালক বাদল খন্দকার জানান, ঘটনার পরের দিন সকালে তিনি সালমানের বাসায় গিয়েছিলেন ছবির শিডিউল নিয়ে কথা বলতে। সকালে সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান বাসার নিচে দারোয়ানরা কানাকানি করছেন সালমান রাতেই ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন।
চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম এ প্রসঙ্গে জানান, জীবনের শেষ দিনগুলোতে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন সালমান শাহ। একদিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, অন্যদিকে প্রযোজকদের সঙ্গে বোঝাপড়ার ঘাটতি এবং চলচ্চিত্র সমিতির কিছু সিদ্ধান্তের কারণে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হওয়া—সব মিলিয়ে এক নিঃসঙ্গ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল এই জনপ্রিয় নায়ককে।
শাবনূর ছাড়াও সালমান শাহ মৌসুমী, শাহনাজ, শাবনাজ, বৃষ্টি ও শাহনাজ পারভীন মিষ্টির সঙ্গেও জুটি বেঁধেছিলেন। ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বুকের ভেতর আগুন’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘আনন্দ অশ্রু’-র মতো চলচ্চিত্রগুলো এখনও দর্শকের মনে জায়গা করে রেখেছে।
ইএইচ/