বিনোদন ডেস্ক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিস্তব্ধ ঘরে দীর্ঘদিন লাশ কেটেছেন রমেশ ডোম। ৩৫ বছরের চাকরি জীবনে ব্যবচ্ছেদ করেছেন হাজারের অধিক মরদেহ। সেসব কখনোই মনের ওপর প্রভাব ফেলেনি। তবে একটি মরদেহের বুকে ছুরি চালানোর কথা ভুলতে পারেন না রমেশ। সেই মরদেহটি ছিল সালমান শাহর।
বছর খানেক আগে সালমান শাহর আত্মহত্যা মামলা হত্যা মামলায় রূপ নিলে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রিয় নায়কের লাশ কাটার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন তিনি। সে সময় জানান, মৃতদেহের বুকে ছুরি চালানোর সময়ও তার বিশ্বাস হচ্ছিল না সালমান শাহ মারা গেছেন।
আজ ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর চলে যাওয়ার দিন। ১৯৯৬ সালের এই দিনে মারা যায় তিনি। হারানোর ৩০ বছর আবেদন ফিকে হয়নি একটূও। দিনটি উপলক্ষে মৃত সালমানকে নিয়ে রমেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হলো।
রমেশের কথায়, ‘চিত্রনায়ক সালমান শাহর ভক্ত ছিল এদেশের লাখ লাখ মানুষ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এদের মতো সে সময় আমিও ছিলাম একজন। হঠাৎ শুনতে পেলাম সালমান শাহ মারা গেছেন, লাশ আনা হচ্ছে মর্গে। হয়তো সেদিন বন্ধের দিন ছিল, মানে সরকারি ছুটি শুক্রবার। লাশ নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ নিয়ে এলো মর্গে। সে সময় মর্গে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। এদের মধ্যে ছিলেন চলচ্চিত্রের তখনকার নামিদামি নায়ক-নায়িকাসহ শোবিজ জগতের প্রায় সব মানুষজন। মর্গের সামনে হাজার হাজার মানুষ—সবাই অঝোরে কাঁদছে তাদের প্রিয় নায়ক সালমান শাহর জন্য। কেউ যেন তখনকার তুখোড় জনপ্রিয় সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না।’
এরপর বলেন, ‘তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ এত আধুনিক ছিল না। পুরাতন মর্গে লাশটি নেওয়া হলো। চিকিৎসকের নির্দেশে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করি আমি। আমার প্রিয় নায়কের বুকে আমি নিজেই ছুরি চালাই। ফরেনসিক চিকিৎসকে নির্দেশে ময়নাতদন্তের সময় সবকিছুই করতে হয়।’
বর্তমানে অবসরে যাপন করা এই ডোম বলেন, ‘৩৫ বছর চাকরি শেষে বর্তমানে অবসর জীবন কাটাচ্ছি। হাজার হাজার লাশ কেটেছি। কিন্তু সালমানের লাশে হাত দেওয়ার স্মৃতি ভোলার নয়।’
আরআর