Dhaka Mail Logo

বিনোদন

বুলবুল আহমেদ: ব্যাংকার থেকে মহানায়ক

বিনোদন ডেস্ক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ এএম

ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদ ছেড়ে অভিনয়ে নাম খেলান ‘দেবদাস’ খ্যাত অভিনেতা বুলবুল আহমেদ। সাবলীল অভিনয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেওয়া কিংবদন্তি চিত্রনায়ক। 

১৯৪১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আগামসি লেনে জন্ম নেওয়া গুণী শিল্পীর আসল নাম তাবারক আহমেদ। যদিও পরিবারের আদরের ডাকনাম ছিল ‘বুলবুল’। তাঁর বাবা খলিল আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান আমলের অর্থ বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি এবং একজন অভিনেতা-নাট্যকার। পিতার হাত ধরে শিল্প-সংস্কৃতির আবহঘেরা এক পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। কিশোর বয়সে বাবার নির্দেশিত নাটক ও মহড়া দেখার মাধ্যমেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায়ও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী; ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৫৭), ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (১৯৫৯), নটরডেম কলেজ থেকে বিএ (১৯৬১) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৬৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নাট্যাঙ্গন ও ‘ড্রামা সার্কেল’ নাট্যগোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে অভিনয়ের চর্চা শুরু করেন তিনি।

১৯৭৩ সালে ইউসুফ জহির পরিচালিত ‘ইয়ে করে বিয়ে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর বড় পর্দায় পথচলা শুরু হয়। এরপর একে একে উপহার দেন ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য কন্যা’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘বধূ বিদায়’, ‘ভালো মানুষ’ এবং কালজয়ী সিনেমা ‘দেবদাস’ ও ‘মহানায়ক’-এর মতো চলচ্চিত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনায়ও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তাঁর পরিচালিত ‘মহানায়ক’, ‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’ ও ‘আকর্ষণ’ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। 

চলচ্চিত্রে অনন্য অবদানের জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৮০ ও ১৯৯৬) এবং একাধিকবার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন। শুধু বড় পর্দা নয়, টেলিভিশন নাটকেও ‘বরফ গলা নদী’, ‘মালঞ্চ’, ‘ইডিয়েট’, ‘এই সব দিনরাত্রি’র মতো নাটকে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন।

পারিবারিক জীবনে ১৯৬৩ সালে ফৌজিয়া আহমেদ ডেইজিকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির তিন সন্তান—ঐন্দ্রিলা, তিলোত্তমা ও শুভ। প্রবীণ শিল্পীদের সম্মানিত করা এবং তাঁর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে পরিবারের পক্ষ থেকে গঠিত হয়েছে ‘বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশন’।

চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষদের কাছে যিনি ছিলেন এক নিপাট ভদ্রলোক, আর দর্শকদের কাছে চিরদিনের ‘মহানায়ক’। বুলবুল আহমেদ ২০১০ সালের ১৫ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তবে রূপালি পর্দায় রেখে যাওয়া অমর সৃষ্টি তাঁকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখবে সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে। 

ইএইচ/