বিনোদন ডেস্ক
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
বাংলাদেশে ও ভারতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ উপন্যাস অবলম্বনে বেশকিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। তবে দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে প্রয়াত চিত্রনায়ক বুলবুল আহমেদের ‘দেবদাস’ সিনেমা। আজ অভিনেতার ৮৬তম জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আগামসি লেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘দেবদাস’ অবলম্বনে ১৯৮২ সালে মুক্তি পেয়েছিল বুলবুল আহমেদ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘দেবদাস’। নির্মাতা ছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। মুক্তির চার দশকেরও বেশি সময় পর ছবির পেছনের মানুষগুলোর স্মৃতি শুধুই ইতিহাস। রূপালী পর্দা কাঁপানো এ ছবির মূল কারিগরদের প্রায় সবাই পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। চলে গেছেন দেবদাস, পার্বতী, চুনিলালও। রয়ে গেছে কেবল চন্দ্রমুখী।

ছবিটিতে ‘দেবদাস’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢালিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন বুলবুল আহমেদ। ২০১০ সালের ১৫ জুলাই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দেবদাসের শৈশবের প্রেম ‘পার্বতী’ চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলেছিলেন মিষ্টি মেয়েখ্যাত চিত্রনায়িকা সারোয়ার কবরী। ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি পাড়ি জমান পরপারে।
বুলবুল আহমেদ: ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে যেভাবে মহানায়ক
দেবদাসের সুখ-দুঃখের সঙ্গী ‘চুনিলাল’ চরিত্রের গুণী অভিনেতা আবদুর রহমান চলে গেছেন ২০০৫ সালে। দেবদাসের ছায়াসঙ্গী ও বিশ্বস্ত অনুচর ‘ধর্মদাস’ চরিত্রে অভিনয় করা ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেন মারা যান ২০১৩ সালে। শুধু অভিনয়শিল্পীরাই নন, ছবির পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তবে কালজয়ী চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রগুলোর মধ্যে বেঁচে আছে শুধু ‘চন্দ্রমুখী’। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন গুণী অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম। তবে পর্দার চন্দ্রমুখি আজ বয়সের ভারে যেন নুয়ে পড়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেত্রী বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার কারণে একা চলাচলও করতে পারেন না। মনে নেই দেবদাস পার্বতীদের কথাও। জানালেন অভিনেত্রীর মেয়ে চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। ঢাকা মেইলকে বললেন, মায়ের এখন কোনো কিছুই মনে নেই। শুধু দেবদাস না, তার অভিনীত অন্য সিনেমাগুলোর শুটিংয়ের কথাও মনে নেই। বর্তমানে বয়সের ভার এবং নানা শারীরিক জটিলতায় অনেকটাই জীবনযাপন করছেন।
উল্লেখ্য, ‘দেবদাস’ ছিল বাংলাদেশে শরৎচন্দ্রের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। খন্দকার নূরুল আলমের সুর ও সঙ্গীতে রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন ও শামীমা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ‘হায়রে মানুষ রঙীন ফানুস’ কিংবা ‘পায়ের নুপুর বাজে’ গানগুলো আজও সংগীতপ্রেমিদের মুখে মুখে ফেরে।
ইএইচ/