Dhaka Mail Logo

বিনোদন

পুরো গল্প না জেনে মানুষ খুব দ্রুত বিচার করে: স্নিগ্ধা

বিনোদন ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ এএম

সম্প্রতি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন অভিনেত্রী ও মডেল স্নিগ্ধা চৌধুরী। তাঁর রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। জীবনের কঠিন সময় পার করে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী। প্রায় চল্লিশ দিনের মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কঠিন সময়ে অনেকেই না জেনে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তবে এসবের ভিড়েও ভালোবাসার মানুষের সমর্থন তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছে।

জন্মদিনকে কেবল বয়স বাড়ার দিন হিসেবে না দেখে আত্মোপলব্ধির দিন হিসেবে দেখছেন স্নিগ্ধা। তিনি লিখেছেন, ‘জন্মদিন মানেই শুধু আরেকটি বছর পার হয়ে যাওয়া নয়। আমার কাছে জন্মদিন মানে, কোথা থেকে শুরু করেছিলাম আর আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি, সেই পথটার দিকে একবার ফিরে তাকানো। এই শহর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। অনেক কিছু দিয়েছে। তবে কোনোটাই সহজে দেয়নি। অনেক দরজা বন্ধ হয়েছে। অনেকবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে। গত চল্লিশ দিন আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল। শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক যন্ত্রণা অনেক বেশি গভীর। যা হয়তো আমার পরিবারের বাইরে আর কারও জানা নেই।’

image

সমাজে মানুষের দ্রুত বিচার করার প্রবণতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘একটি কথা আজকে না বললেই নয়, মানুষের বিচার খুব দ্রুত হয়। কেউ পুরো গল্প না জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। কেউ সত্যিটা জানার চেষ্টা না করেই একটা মানুষকে ভালো বা খারাপ বলে দেয।, কেউ আবার একজন মানুষের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তটাকেই তার পুরো পরিচয় বানিয়ে ফেলে। আমি সবকিছু দেখেছি, অনুভব করেছি, সহ্য করেছি।’

চিকিৎসকের পরামর্শ এতদিন সামাজিক মাধ্যম দূরে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। স্নিগ্ধা লেখেন, ‘এতদিন পরিবারের কাছে ছিলাম। নিজেকে সময় দিয়েছি, কেঁদেছি, ভেবেছি, চুপ থেকেছি এবং সবচেয়ে বেশি নিজেকে আবার খুঁজে নিয়েছি। যারা আমাকে ভালোবেসেছেন। কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন, নীরবে আমার জন্য দোয়া করেছেন— আপনাদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা আজীবন। আর যারা আমাকে ভুল বুঝেছেন, তাদের প্রতিও আমার কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই। কারণ প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজের দেখা সত্যকে দেখে বিচার করে। আমি জানি, কত মেয়ের সামনের দিনের পথচলাটা সহজ করে দিয়েছি। কত মেয়ের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলেছি। দিন শেষে অনেক বছর পর পরিবারকে সময় দিতে পেরেছি। নিজেকে নতুন করে চিনেছি। আপন পর সবটা এখন আমার সামনে একদম স্বচ্ছ।’

chowdhury

তিনি যোগ করেন, ‘যারা ভেবেছিলেন আমি ভেঙে গেছি,তারা শুধু আমার নীরবতাটা দেখেছিলেন। আমি জানি, আমি ভাঙিনি।  একটু ক্লান্ত হয়ে শুধু থেমেছিলাম। এবার আবার চলার পালা।’ 

সবশেষে কর্মজীবী নারী ও সহকর্মীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে স্নিগ্ধা লেখেন, ‘আমার জন্মদিনে প্রতিটি কর্মক্ষম নারীর জন্য শুভকামনা। সবাই সবার কর্মস্থলে নিরাপদ থাকুক, এটাই কামনা। এই কঠিন পৃথিবীতে আমার জন্য স্বার্থহীন হয়ে যেই মানুষগুলো পাশে থেকেছে তাঁদের ভালোবাসা আমাকে আজীবনের মতো শিখিয়ে দিল ভালোবাসার ক্ষমতা অনেক। ভালোবাসা সব ক্ষত দূর করে দিতে পারে।’

ইএইচ/