বিনোদন ডেস্ক
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
কয়েক বছর ধরে কানাডায় আছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ। কেননা একমাত্র ছেলে নিবিড় চিকিৎসাধীন সেখানে। সে কারণেই স্ত্রীসহ দেশটিতে থিতু হয়েছেন। সেখান থেকেই জানালেন ছেলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে।
সংবাদমাধ্যমকে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘নিবিড় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। সময় লাগবে আরও। তারপরও সবকিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
নিবিড় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে অনেকেই সুস্থতা কামনা করেছিলেন সামাজিক মাধ্যমে। সেসব ভোলেননি গায়ক। দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমার দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা প্রাণ ভরে দোয়া করেছেন, এখনো আশীর্বাদে রেখেছেন। দেশের সীমানা পেরিয়ে নানা দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ আমার ছেলের জন্য দোয়া করেছেন, তাদের প্রতি ভালোবাসা।’
কানাডায়ও গানের সঙ্গে আছেন বিশ্বজিৎ। সামাজিক মাধ্যমে নিজের গান নিয়মিত শেয়ার করেন। পাশাপাশি নিয়মিত স্টেজ শো-ও করছেন। তার কথায়, ‘গান আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। গানই সবকিছু। গান নিয়েই একটা জীবন কাটিয়ে দিলাম। বাকি পথটাও গানের সঙ্গে কাটাতে চাই। কথায় বলে না, বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দরকার। গান আমার কাছে তাই।’
২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কানাডার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিশ্বজিৎপুত্র নিবিড়। দুর্ঘটনার পর অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশ (ওপিপি) জানিয়েছিল, টরেন্টোর হাইওয়ে ৪২৭–এর দুনদাস স্ট্রিট ওয়েস্টে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ সময় গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটি উল্টে আগুন ধরে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করেন। গাড়ির পেছনের সিটে বসা দুজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। সামনের সিটে বসা শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হলে সেখানে তিনি মারা যান।
দুর্ঘটনায় আরিয়ান আলম দীপ্ত, শাহরিয়ার খান ও অ্যাঞ্জেলা বারৈ নামের তিন বাংলাদেশি নিহত হন। নিবিড় কুমার ছিলেন গাড়ির চালক। বাকিরা ছিলেন যাত্রী। নিবিড়কেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারপর থেকেই চিকিৎসাধীন তিনি। দীর্ঘদিন ছিলেন লন্ডনের সেন্ট মাইকেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। পরে চিকিৎসা চলে মিসিসাগার একটি রিহ্যাব সেন্টারে। এখনও চিকিৎসাধীন তিনি।
আরআর