বিনোদন ডেস্ক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
ইসরায়েলি কারাগারে দীর্ঘ দুই দশক ধরে বন্দী ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারগুতির মুক্তির দাবিতে প্রচারাভিযান শুরু করেছেন হলিউড তারকারা। এতে অংশ নেন মার্ভেল ইউনিভার্সের মার্ক রাফালো, বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, ইয়ান ম্যাকেলেন, কেট ব্লানচেট ও টিল্ডা সুইন্টনের মতো অভিনেতা। হলিউড তারকাদের প্রচারাভিযানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলি আদালতের নথি অনুযায়ী, আল-আকসা মার্টিয়ার্স ব্রিগেডের সাবেক প্রধান মারওয়ান বারগুতিকে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার বা সরকারবিরোধী ইশতেহার লেখার জন্য বন্দি করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি আদালতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথিপত্রে বারঘৌতির নির্দেশে সংঘটিত সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—২০০১ সালের জুনে জেরুজালেমের নিকটবর্তী এলাকায় গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের পাদ্রি জর্জিয়াস সিবৌউতজাকিসকে গুলি করে হত্যা। ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে গিভাত জেভের একটি গ্যাস পাম্পে গুলিতে নিহত হন মার্কিন নাগরিক ইয়োয়েলা হেন। এছাড়া একই বছরের মার্চে তেল আবিবের সিফুড মার্কেট রেস্তোরাঁয় হামলায় প্রাণ হারান ইলি দাহান, ইউসেফ হাবি এবং ড্রুজ বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট-মেজর সেলিম বারাকাত। একজন মার্কিন নাগরিক, খ্রিষ্টান পাদ্রি ও এক ড্রুজ পুলিশ সদস্যসহ নানা সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ বারগুতির নির্দেশে চালা হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ইসরায়েলি আদালত অভিযোগের প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করেছে। প্রসিকিউশন পক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে না পারায় আদালত তাঁকে অন্য ২১টি হত্যা ও ৩৩টি হামলার অভিযোগ থেকে খালাসও দিয়েছিল। অর্থাৎ, শুধু ফিলিস্তিনি নেতা হওয়ার কারণে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়নি। বরং যে অভিযোগগুলোর প্রমাণ মিলেছে সেগুলোর জন্যই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে মার্ভেল তারকাদের পক্ষ থেকে বারগুতিকে ‘ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দিক থেকে এই তুলনা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবাদী সরকারের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করলেও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেননি। অন্যদিক, বারগুতির বিরুদ্ধে রেস্তোরাঁ, স্কুল ও শপিং মলে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বেসামরিক নাগরিকের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ফিলিস্তিনিদের পরিচালিত বেসামরিক হামলাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের কান্নার কথা উপেক্ষা করে হলিউড তারকারা নিজেদের জাহির করার চেষ্টা করছেন।
ইএইচ/