বিনোদন ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:২১ পিএম
রোমের কনসার্ট শেষ করে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়ালেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘নগর বাউল’-এর ভোকালিস্ট জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। ইতালির রোমের একটি হোটেলের কক্ষ অগোছালো ও নোংরা করে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। কক্ষটি পরিচ্ছন্ন করার জন্য কনসার্টের আয়োজকদের কাছে অতিরিক্ত ২০০ ইউরো দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এবার অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন জেমসের ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন।
হোটেল রুম নোংরা করার অভিযোগকে তুচ্ছ ঘটনা বলে দাবি করেছেন জেমসের ম্যানেজার। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কক্ষ ছেড়ে চলে আসার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।
গণমাধ্যমকে রবিন জানান, জেমস ও তাঁর টিমের সদস্যরা মোট ৪টি কক্ষে ছিলেন। এর মধ্যে জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে এবং তিনি নিজে ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। হোটেল কর্তৃপক্ষ যে ৫৪৯ নম্বর কক্ষ নোংরা অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগ করেছে, সেখানে অন্য একজন মিউজিশিয়ান ছিলেন। রবিনের ভাষ্য, ‘জেমস ওই কক্ষে ছিলেন না। তাই একজনের কক্ষের অবস্থার দায়ভার জেমসের ওপর বর্তায় না।’

এদিকে জেমসের ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ইতালির অনুষ্ঠান আয়োজক হোসাইন আহমেদ মোয়াজ। আয়োজকের দাবি, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ এবং টিকিট বিক্রির সম্পূর্ণ টাকা নিজের কাছেই রেখে দেন রবিন। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠান শেষে আয়ের হিসাব দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এ ছাড়াও, অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা দেশে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রবিন কিংবা জেমসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (১৬ আগস্ট) রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন জেমস ও তাঁর টিম। সে সময় তাঁরা অবস্থান করছিলেন স্থানীয় বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে। কনসার্ট শেষে তাঁরা হোটেল ত্যাগ করার পরপরই শুরু হয় বিপত্তি।
সামাজিক মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় আয়োজক প্রতিনিধি হোসাইন আহমেদ মোয়াজের মধ্যকার একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে হোটেল কর্তৃপক্ষ অ্যাপার্টমেন্টটির কয়েকটি ছবি পাঠিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত পানির বোতল ও নানা রকম বর্জ্য। রান্নাঘরের সিঙ্ক অপরিষ্কার থালা-বাসনে ভর্তি এবং তার পাশেই পড়ে রয়েছে ভাঙা কাঁচা ডিম। কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত পানির বোতল ও নানা রকম বর্জ্য।
হোটেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে, অতিথিরা কক্ষ ত্যাগ করার পর সেটির অবস্থা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। কক্ষটি পরিচ্ছন্নতার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম ২০০ ইউরো অতিরিক্ত ফি দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই হোটেলে পুনরায় রুম বুকিং করতে হলে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
ইএইচ/